সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৮:১০

২০০০ কর্মকর্তার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্যোগ

Published : 2017-08-07 23:46:00
মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন: পরিকল্পনা কমিশনের ইকোনমিক ক্যাডারসহ প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণসহ উচ্চশিক্ষার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা কমিশনের গ্রেড-১ থেকে সম্প্রতি ইকোনমিক ক্যাডারে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তাদের জন্য থাকছে দেশে-বিদেশে পিএইচডি গবেষণা, বিদেশে মাস্টার্সসহ বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ।  
ইতোমধ্যে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা পরিকাঠামো সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। এতে মোট ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ কর্মকর্তা পাবে দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ। এর মধ্যে ১৮০ জনই বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের বাইরে একই উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা কমিশনের উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আরও
তিনটি প্রকল্প এ বছর থেকে শুরু হয়েছে। এই তিন প্রকল্পের আওতায় বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন ২৫৫ জন ইকোনমিক ক্যাডার। এছাড়া ১ হাজার ৪৮৯ জনের জন্য রাখা হয়েছে স্থানীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।  
জিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা পরিকাঠামো সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় বিদেশে দেড় বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন ২০ কর্মকর্তা। এ জন্য ব্যয় হবে ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বিদেশে তিন বছর মেয়াদি পিএইচডি ডিগ্রির সুযোগ পাবেন ১০ জন। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৪ লাখ টাকা আর একই সংখ্যক অর্থাত্ ১০ কর্মকর্তাকে দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির জন্য নির্বাচন করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
উপ-প্রধান পর্যায়ের ইকোনমিক ক্যাডারদের জন্য রাখা হয়েছে বিদেশে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ। দুই মাস মেয়াদি এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন ৯০ কর্মকর্তা। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব কর্মকর্তার জন্য ব্যয় হবে ৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। যুগ্ম প্রধান কর্মকর্তারা পাবেন ৩০ দিনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ। সুযোগ দেওয়া হবে ৫০ জন যুগ্ম প্রধানকে। এজন্য সরকারকে ব্যয় করতে হবে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ২০ জন কর্মকর্তার জন্য মাত্র এক সপ্তাহের স্টাডি ট্যুরের ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ লাখ টাকা।
গত ২৭ জুলাই প্রকল্প প্রস্তাবের ওপর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান এমএস গোলাম আলী এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, দেশ এখন শিল্পায়নের যুগে প্রবেশ করছে। উন্নয়ন কাজের পরিমাণও বহুগুণ বেড়ে গেছে। এখন বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমেও বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ কারণে উন্নয়ন প্রকল্প প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনা, মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দক্ষ প্রশাসনের প্রয়োজন। এ বিবেচনায় প্রকল্পটির উদ্যোগ নিয়েছে জিইডি।  
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ১৯৮০-এর দশকে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনা, মূল্যায়নে ইকোনমিক ক্যাডার পদ সৃষ্টি করে সরকার। বর্তমানে প্রায় ৫৩২ জন ইকোনমিক ক্যাডার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এ কারণে ইকোনমিক ক্যাডারদের উন্নয়ন ক্যাডারও বলা হয়ে থাকে।
সমজাতীয় প্রকল্প : প্রস্তাবিত প্রকল্প ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া ও তদারকি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও প্রক্ষিশণে এ বছর থেকে শুরু হয়েছে আরও তিনটি সমজাতীয় প্রকল্প। ওই তিন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে মোট ১ হাজার ৪৮৫ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১২ কর্মকর্তা পাচ্ছে বিদেশে ডিপ্লোমা কোর্সের সুযোগ। বিদেশে এক থেকে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে আটজন।  চার কর্মকর্তা সুযোগ পাচ্ছেন  পোস্ট গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ করার। সংক্ষিপ্ত বিদেশ সফরে যাবেন ৬০ কর্মকর্তা। বৈদেশিক স্টাডি ট্যুরে যাবেন ১৬৯ কর্মকর্তা। এছাড়া বিদেশে সেমিনারে অংশগ্রহণ করবেন ছয় কর্মকর্তা।
জানা গেছে, বতর্মানে ডিজিটাল ডাটাবেজ সিস্টেম ও আর্কাইভ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এনইসি ও সমন্বয় অনুবিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ৩৮৪ কর্মকর্তাকে স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে এ কার্যক্রম চলবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতে মোট ব্যয় হচ্ছে ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় ১৮ কর্মকর্তা বিদেশে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে আরও ২৪ কর্মকর্তা বৈদেশিক স্টাডি ট্যুর এবং ছয়জন পাচ্ছেন বৈদেশিক সেমিনার ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের সুযোগ।
পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন বাজেট ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৬২২ জন ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তারা দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন। চলমান এ কার্যক্রমটি চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হয়ে চলবে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত। এতে মোট ব্যয় হবে ৩৯ কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় প্রশিক্ষণ পাবেন ৫২১ জন। ১২ জন কর্মকর্তা পাচ্ছেন বিদেশে এক থেকে দুই মাস মেয়াদি মাস্টার্স কোর্সে ভর্তির সুযোগ। স্থানীয় পর্যায়ে স্নাতকোত্তর গবেষণার জন্য নির্বাচন করা হবে চার কর্মকর্তাকে। ৪২ কর্মকর্তার জন্য রাখা হয়েছে বিদেশে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ। বৈদেশিক স্টাডি ট্যুরে যাবেন ৩৫ কর্মকর্তা।  
সরকারি বিনিয়োগ অধিকতর কার্যকর করার জন্য সেক্টর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্পও রয়েছে। ১৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এ কার্যক্রম চলবে ২০২০ সাল পর্যন্ত। এ কার্যক্রমের আওতায় ৪৩৫ থেকে ৫৮০ কর্মকর্তা স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। এছাড়াও ১১০ কর্মকর্তা বৈদেশিক স্টাডি ট্যুরে যাবেন।