বুধবার ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৫:৫১
ব্রেকিং নিউজ

■  ২০১৯ সালে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা হবে ৩০ লাখ: আইএলও ■  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিলম্বের জন্য বাংলাদেশ দায়ী: মিয়ানমার ■  হবিগঞ্জে কৃষক হত্যায় একই পরিবারের ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ■  পশুখাদ্য মামলায় ফের ৫ বছরের কারাদ্ণ্ড লালুপ্রসাদের ■  আ.লীগ ৪০টির বেশি আসন পাবে না : জানালেন মোশাররফ ■  নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন হবে না: হুশিয়ারি ফখরুলের ■  ২৯ জানুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ■  চবিতে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা ■  ঢাবি উপাচার্যকে হেনস্তার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি ■  আফগানিস্তানে ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ কার্যালয়ে হামলা, নিহত ২ ■  ঢাবিতে অরাজকতা হতে দেওয়া হবে না: হুশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সেলাইপটু টুনটুনি

Published : 2017-08-07 23:41:00
আজমল হক হেলাল: টুনটুনি পাখিকে দূর থেকে দেখে মনে হয়, লেজের অগ্রভাগ বুঝি খসে পড়েছে। আসলে ওদের লেজের গড়নই এমন! বলা যায় পুচ্ছবিহীন পাখি। তার ওপর শরীরের তুলনায় মাথাটা বড়। তাই চেহারাটা যুত্সই মনে হয় না। বেশিরভাগ টুনটুনি একাকী বিচরণ করে। প্রজনন মৌসুমে জোড়ায় দেখা যায়।
টুনটুনি অত্যন্ত অস্থির পাখি। কোথাও একদণ্ড বসে থাকার সময় নেই। সারা দিন ওড়াওড়ি। লতাগুল্মের ফাঁক-ফোকরে লাফিয়ে বেড়ায়। এই পাখি নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা ছোটদের গল্প-কবিতা লিখেছেন। একটি গানও আছে-‘এক ছিল টোনা আর এক ছিল টুনি। টোনা বলে ওরে টুনি পিঠা কর।’ যদিও গানটি টোনাটুনির গল্প থেকে নেওয়া।
টুনটুনি আকারে ছোট পাখি। এদের যত চালাক পাখি ভাবা হয়, আসলে তা নয়। এরা যেমন চালাক, তেমন বোকা। টুনটুনি বিপদ দেখলেই চেঁচামেচি করে। ফলে সহজেই শত্রুর কবলে পড়ে।
টুনটুনির ইংরেজি নাম Common tailorbird। অর্থাত্ দর্জি পাখি। এরা গাছের পাতা ঠোঁট দিয়ে সেলাই করে বাসা বানায়। বৈজ্ঞানিক নাম Orthotommus sutoriu। টুনটুনির বুক ও পেট সাদাটে। অনেকটা মাটির ঢিলার মতো। ডানার উপরিভাগ জলপাই-লালচে। মাথা জলপাই-লালচে। চোখের মণি পাকা মরিচের মতো। বুক সাদা পালকে ঢাকা। লেজ খাড়া, তাতে কালচে দাগ আছে। ঋতুভেদে পিঠ ও ডানার রঙ কিছুটা বদলায়।
টুনটুনি বিভিন্ন রকম খাবার খায়। এরা অনেক অপকারী পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ খাদ্য হিসেবে খায়। তা ছাড়া ছোট কেঁচো, মৌমাছি, ফুলের মধু, রেশম মথ ইত্যাদি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। ধান-পাট-গম পাতার পোকা, আম পাতার বিছা পোকা তাদের খাদ্য তালিকায় আছে।
টুনটুনির বাসা খুব বেশি উঁচুতে হয় না। সাধারণত এরা ৬-১০ সেমি উচ্চতায় বাসা বাঁধে। ছোট গুল্মজাতীয় গাছ অথবা ঝোপঝাড় এদের প্রধান পছন্দ। শিম, লাউ, কাঠ বাদাম, সূর্যমুখী, ডুমুর, লেবু
গাছে এরা বেশি বাসা বাঁধে। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি মিলে বাসা তৈরি করে। প্রজনন মৌসুম মে থেকে জুলাই। শৈবাল, শ্যাওলা, শিকড়, তন্তু দিয়ে বর্তুলাকার আকৃতির বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৩-১৫ দিন।
পাখি বিশেষজ্ঞ এনামুল হক বলেন, টুনটুনি পাখি বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যাবে। পাখিটি হালকা ছোট আকারের। পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। এরা বনের ঘাস চিকন করে ছিঁড়ে ছোট ঝোপের মধ্যে গাছের পাতা একটির সঙ্গে অপরটি সেলাই করে জোড়া লাগিয়ে বাসা বুনে।  এ জন্য টুনটুনিকে ‘দর্জি পাখি’ বলা হয়।