সোমবার ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭, রাত ১০:২৬

রৌমারীতে দুই ফেরদৌসকে নিয়ে তুলকালাম!

Published : 2017-08-06 22:18:00, Updated : 2017-08-06 22:28:36
রৌমারী সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দুই ফেরদৌসকে নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দিন থেকে সারা উপজেলায় তোলপাড় চলছে। কলেজ শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ফেরদৌস ও কলেজ শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস দু'জনকে আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসি কর্তৃক আটকের পর ওই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে থানা পুলিশ জনরোষ থেকে তাদের দু'জনকে রক্ষা করে থানায় নিয়ে আসে। এলাকাবাসি অভিযোগ করলেও ওই দুই ফেরদৌস আপত্তিকর বা অনৈতিক কোনো কর্মকান্ড করেনি এবং একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই তাদের-এমন বক্তব্যে পুলিশও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে।

গত শনিবার দুপুর ১টার দিকে ঘটনার পর থেকে রোববার পর্যন্ত কলেজ শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে রেখে কলেজ ছাত্রীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে রৌমারী ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিষয়ের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে এলাকাবাসির মাঝে চাপা ক্ষোপের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসির সঙ্গে যোগ দিয়ে কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে রোববার ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমে আসে।

এসময় শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের বহিস্কার দাবি করে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় কলেজ গভর্নিং বডির এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িক বহিস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অধ্যক্ষ সামিউল ইসলাম জীবন।

এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১টার দিকে কলেজপাড়াস্থ নিজের বাস ভবনে কলেজ শিক্ষক আর কলেজ ছাত্রী দু'জনে এক সঙ্গে অবস্থান করে। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসি বাসায় ঢুকে ঘরের জানালা ভেঙ্গে তাদের দু’জনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়।

এ খবর পেয়ে মুর্হুতের মধ্যে হাজারো মানুষ জড়ো হয়। এসময় বিক্ষুদ্ধ জনতার মাঝে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওই দু'জনকে জনতার রোষ থেকে রক্ষা করে থানা নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে নানা আলোচনা সমালোচনা।

রৌমারী থানা পুলিশ জানায়, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু কলেজ ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস সব অস্বীকার করেন। তিন বলেন, 'আমি স্যারের কাছে ইংরেজি বিষয়ে সাজেশন ও নোট নেয়ার জন্য এসেছিলাম। এসময় স্যারের সঙ্গে কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে এলাকাবাসি না বুঝে আমাদের ঘিরে ফেলে। স্যারের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।'

এ অবস্থায় ওই রাতে কলেজ ছাত্রীকে তার অভিভাবকের হাতে তুলে দেয়া হয়। আর শিক্ষককে থানা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ডাকা হয়েছে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

এলাকাবাসি জানান, ওই শিক্ষক কলেজ পাড়ায় তার বাসায় শিক্ষার্থীর প্রাইভেট পড়ায়। আর এ সুযোগে ছাত্রীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। এর আগেও এরকম ঘটনা ঘটেছিল। কলেজ ছাত্রীর বাড়ি উপজেলার চাকতাবাড়ি গ্রামে। তার বাবা একজন স্কুল শিক্ষক। সে ইংরেজি বিষয়ে মাষ্টার্স করে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ফেরদৌস বলেন, 'এটা একটা চক্রান্ত। এলাকার কিছু মানুষ অন্যায় ভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদীত হয়ে আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।'

ওই ঘটনা প্রসঙ্গে সহকারি পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) সিরাজুল ইসলাম জানান, আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসা থেকে দু'জনকে উদ্ধার করি। এসময় বাইরে অসংখ্য বিক্ষুদ্ধ জনতা উপস্থিত ছিল। কিন্তু মেয়ের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ ও মামলা না করায় আমরাও বিব্রতকর অবস্থা পড়েছি। মেয়েকে তার বাবার হাতে এবং শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের হাতে তুলে দেয়া ছাড়া আমাদের করার কিছু নেই।