সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৪:৩১

হজযাত্রী রেখে ফ্লাইট চলে গেল: কারণ চিহ্নিত করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিন

Published : 2017-07-29 22:10:00
এ বছর হজ ফ্লাইট গত ২৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে, চলবে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত। এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। যথাযথ প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা থাকায় আশা করা গিয়েছিল এবার হজযাত্রীদের কোনো দুর্ভোগে পড়তে হবে না। কিন্তু শুক্রবার ৭৮ জন হজযাত্রী রেখে সৌদি এয়ারলাইনের নির্ধারিত দুটি ফ্লাইট চলে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সন্ধ্যা ৬টার যাত্রীরা বিকেল ৪টার মধ্যেই বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিমানের ভেতর লাগেজ বা ব্যাগপত্র পরিবহন করবেন কি না, এ নিয়ে তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন। তবে ঠিক কোন কারণে যাত্রীদের রেখে সৌদি এয়ারলাইনের ফ্লাইট চলে গেছে সে সম্পর্কে বিমানবন্দরের পরিচালক সূত্র স্পষ্ট কিছু বলতে পারেনি। বিমানবন্দরে কর্মরত এপিবিএনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যাত্রীদের লাগেজ নিয়ে তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তহীনতা ও সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির দায়িত্বে অবহেলার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। সৌদি এয়ারলাইনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি যাত্রীপ্রতি ৩০০ ডলার করে জরিমানা দেওয়া হয়, তবে পরবর্তী সময়ে তাদের যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
হজব্রত পালন মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় অনুশাসন। হজব্রত পালনের সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি আবেগের বিষয়টিও জড়িত। হজযাত্রা থেকে শুরু করে হজের সব আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে সম্পন্ন করে হজযাত্রীরা নিরাপদে নির্বিঘ্নে দেশে ফিরবেন, এমনটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু প্রতি বছরই দেখা যায় কিছু না কিছু দুর্ভোগের মধ্যে হজযাত্রীদের পড়তে হয়। এ বছর হজযাত্রা নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। কিন্তু শুক্রবার দুর্ভোগের শিকার হলেন ৭৮ জন হজযাত্রী। বিষয়টি দুঃখজনক। যারা সমস্ত প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও হজে যেতে পারলেন না, তারা মানসিকভাবে যে কষ্ট পেয়েছেন, তা যেকোনো সংবেদনশীল মানুষই অনুভব করবে। এখন বলা হচ্ছে ৩০০ ডলার ফাইন দেওয়া হলে তাদের পরবর্তীতে সৌদি আরব নেওয়া হবে। ফাইন দেওয়ার বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। কোনো ভুল না থাকলে হজযাত্রীরা কেন ফাইন দিতে যাবেন! কাদের ভুলে বা দায়িত্বহীনতায় হজযাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হল সেটি তদন্ত করে বের করতে হবে। ট্রাভেল এজেন্টের কোনো দায়িত্ব পালনে অবহেলা থাকলে সেটিও তদন্ত করা দরকার। যাদের ভুলে হজযাত্রীরা ফ্লাইট মিস করলেন তাদেরকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। যেসব হজযাত্রীকে রেখে ফ্লাইট চলে গেল তাদের দ্রুত সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। হজযাত্রার আগামী দিনগুলোতে কোনো রকম দুর্ভোগের ঘটনা ঘটবে না, হজযাত্রীরা নির্বিঘ্নে, নিরাপদে হজব্রত পালন শেষে দেশে ফিরবেন, আমরা সেই প্রত্যাশাই করছি।