শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১১:৩২

বিদ্যুৎ খাত কাঠামোগত অন্যায় ও অনিয়মের শিকার

Published : 2017-07-29 22:09:00, Updated : 2017-07-30 10:17:20
ড. এম শামসুল আলম: গত ১৬ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত লিড নিউজের শিরোনাম ছিল ‘সরকার ৮ টাকার বিদ্যুত্ কিনছে ৩০ টাকায়’। এতে সরকারের লোকসান নেই। ফার্নেস অয়েল কেনাবেচায় সরকার ট্যাক্স পায় না, ডিজেলে পায়-এভাবেই এত বেশি দামে বিদ্যুত্ কেনায় সমর্থন দিলেন বিদ্যুত্ সচিব। বিদ্যুত্ খাত যে কাঠামোগত অন্যায় ও অনিয়মের শিকার, এ ঘটনাকে তারই প্রমাণ হিসেবে পাঠক সমীপে পেশ করার জন্যই এ লেখা।

২.
বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) সর্বশেষ প্রতিবেদন মতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের মেঘনাঘাটের ৩০৫ মেঘাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র থেকে বিউবো ১৮ টাকা মূল্যহারে ডিজেল থেকে উত্পাদিত ১০১ কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৩৫ ইউনিট বিদ্যুত্ ক্রয় করে। তাতে বিউবোর খরচ হয় ১ হাজার ৮২৬ কোটি ৪৭ লাখ ৮২ হাজার ৪৩০ টাকা। অথচ মূল চুক্তি মতে ওই বিদ্যুেকন্দ্র থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদন হবে গ্যাস কিংবা ফার্নেস অয়েল থেকে। ফার্নেস অয়েল থেকে উত্পাদিত বিদ্যুতের গড় মূল্যহার ৮ টাকা ধরা যায়। যদি ওই বিদ্যুেকন্দ্রে ফার্নেস অয়েল থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদন হতো, তাহলে বিউবোর খরচ হতো ৮১১ কোটি ৭৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা। ফলে ধরা যায়, ওই অর্থবছরে লোকসান হয় ১ হাজার ১৪ কোটি ৭১ লাখ ১ হাজার ৩৫০ টাকা।

৩.
প্রাথমিক হিসাবে দেখা যায়, গত অর্থবছরে বিউবো ওই বিদ্যুেকন্দ্র থেকে ১০২ কোটি ইউনিট বিদ্যুত্ ২১ টাকা ১০ পয়সা মূল্যহারে ক্রয় করে। তাতে খরচ হয় ২ হাজার ১৫২ কোটি ২০ লাখ টাকা। ফলে লোকসান হবে ১ হাজার ৩৩৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। বিদ্যুেকন্দ্রটি উত্পাদনে আসে ২০১৪ সালে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৩ টাকা ৪২ পয়সা মূল্যহারে ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ৩৪ হাজার ইউনিট বিদ্যুত্ ক্রয় করায় লোকসান হয় ৭৩৪ কোটি ৪ লাখ ৪৪ হাজার ২৮০ টাকা। প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর তখন ছিল ১৮.৮২ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ৩৭.৯৮ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৮.১৮ শতাংশ।

৪.
বিদ্যুতের মূল্যহার সংক্রান্ত বিইআরসির (কমিশন) ২০১৫ সালের ২৭ আগস্টের আদেশে দেখা যায়, সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক (গ্যাস/ফার্নেস অয়েল) মেঘনাঘাট ৩৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার প্ল্যান্টের চুক্তির শর্ত মতে, বিদ্যুত্ উত্পাদন ফার্নেস অয়েলে হচ্ছে না, ডিজেলে হচ্ছে। ফলে সামিট ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুত্ বিল পাচ্ছে। বিষয়টি উল্লেখ করে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে ভোক্তা প্রতিনিধি গণশুনানিতে কশিমনের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন। অতঃপর ওই আদেশের ৪.৬ উপ-অনুচ্ছেদে মেঘনাঘাট পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুত্ উত্পাদনে ফার্নেস অয়েলের পরিবর্তে হাইস্পিড ডিজেল ব্যবহার প্রসঙ্গে কমিশন নিম্নরূপ বক্তব্য উল্লেখ করে- ‘শুনানিতে ভোক্তা প্রতিনিধিগণ অভিযোগ করেন যে, বেসরকারি খাতের সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক (ফার্নেস অয়েল/গ্যাস) কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টে ফার্নেস অয়েলের পরিবর্তে হাইস্পিড ডিজেল (ঐঝউ) দ্বারা বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী বিউবো বিল পরিশোধ করছে। এতে দাম বেশি পড়ছে। বিউবো এ ব্যাপারে শুনানিতে বা শুনানি পরবর্তী লিখিত মতামতে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। একটা আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ৩৩৫ মেগাওয়াট দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক (ফার্নেস অয়েল/গ্যাস) কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুত্ ক্রয় (চচঅ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ব্যাপারে শুনানিকালে জানা যায়, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ট্যারিফে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ফুয়েল ডেফিনেশনে পরিবর্তনপূর্বক চুক্তি সংশোধনী আনা হয়েছে। কমিশন কর্তৃক ইস্যুকৃত লাইসেন্স থেকেও দেখা যায়, সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের পাওয়ার প্ল্যান্টটি ফার্নেস অয়েল/গ্যাসভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট। তাই এ বিষয়ে বিউবোর পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা প্রদান করা প্রয়োজন।’

৫.
ওই আদেশের ৭ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত কমিশনের নির্দেশনাবলির ৭(৪) নং উপানুচ্ছেদ-‘ফার্নেস অয়েল/গ্যাসভিত্তিক সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার প্ল্যান্টের সঙ্গে বিউবো কর্তৃক সম্পাদিত বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তির ফুয়েল পরিবর্তন বিষয়ে বিউবো বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আাাগামী ২ (দুই) মাসের মধ্যে মতামতসহ কমিশনের কাছে একটি প্রতিবেদন পেশ করবে।’ সে আদেশ মতে বিউবো বিদ্যুতের মূল্যহার বা ট্যারিফ বৃদ্ধির আদেশ কার্যকর করেছে ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে। কিন্তু বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তির ফুয়েল পরিবর্তনের বিষয়ে মতামতসহ বিউবো কোনো প্রতিবেদন কমিশনের কাছে আজ পর্যন্ত পেশ করেনি। আদেশে কমিশন বাল্ক বিদ্যুতের মূল্যহার বৃদ্ধি করে ৪ টাকা ৯০ পয়সা যে মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করেছে, তাতে কমিশন ক্রয় চুক্তির ওই ফুয়েল পরিবর্তন অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের মূল্যহার গ্রহণ করেছে। অথচ বিউবো ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুতের মূল্যহারে সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডকে বিদ্যুত্ ক্রয়মূল্য পরিশোধ করছে। বিদ্যুত্ বিভাগ তাতে সমর্থন জোগাচ্ছে। অবশ্য বিদ্যুত্ বিভাগের সচিব বা কোনো কর্মকর্তা রদবদলের ক্ষমতা যদি সামিট রাখে, তাহলে তাদের এমন সমর্থন জোগানো স্বাভাবিক বলেই মেনে নিতে হবে।  

৬.
প্রমাণাদিতে দেখা যায়, দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক (ফার্নেস অয়েল/গ্যাস) ৩০৫/৩৩৫ মেঘাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুেকন্দ্র মেঘনাঘাটে নির্মাণকল্পে বিউবো ও সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ২০১১ সালের ১২ মে এক বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তিতে (পিপিএ) আবদ্ধ হয়। আইপিপি নীতিমালার আওতায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে যাচাই বাছাইক্রমে এ বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের জন্য বিদ্যুত্ বিভাগ তথা সরকারের অনুমোদনক্রমে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সে চুক্তি মতে ওই বিদ্যুেকন্দ্রে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদনের সুযোগ ছিল না।

৭.
অতঃপর ২০১১ সালের ৩ আগস্ট কোম্পানি ও বিউবো ‘বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তিতে প্রথম সংশোধনী’ এই শিরোনামে মূল চুক্তির ২২.১ অনুচ্ছেদে কতিপয় সংশোধনী আনে এবং তা বিদ্যুত্ বিভাগের অনুমোদন পায়। সেই সংশোধনীতে যেসব সংশোধন আনা হয়, তার মধ্যে জ্বালানির সংজ্ঞায় আনা সংশোধনীটি আলোচ্য ক্ষেত্রে বিশেষভাবে তত্পর্যপূর্ণ। তাতে বলা হয়, ক্রয় চুক্তির অনুচ্ছেদ ১-এ বর্ণিত জ্বালানির সংজ্ঞা সংশোধিত হবে সম্পূর্ণ সংজ্ঞা বিলুপ্ত ও অতঃপর নতুন সংজ্ঞা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে। এই সংশোধিত সংজ্ঞায় বর্ণিত মানের ফার্নেস অয়েল বিপিসি আমদানি না করায় ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদনের যৌক্তিকতা দেখানো হয় এবং এ যুক্তির ভিত্তিতে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন প্রস্তাব বিদ্যুত্ বিভাগের অনুমোদন পায়। এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে এবং বিদ্যুত্ বিভাগের অদৃশ্য চাপের মুখে বিউবো নতি স্বীকার করেছে, তা সহজেই বোঝা যায়।

৮.
ওই চুক্তি করার এবং সে চুক্তি পরিবর্তন করার যুক্তিতে বলা হয়, ২০১০-২০১১ সালের দিকে চাহিদা অপেক্ষা বিদ্যুত্ উত্পাদন অনেক কম ছিল। তাই চাইলেই সে সময় দরকষাকষির সুযোগ ছিল না। বাধ্য হয়ে সরকারকে দ্রুত বেশ কিছু বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের লাইসেন্স দিতে হয়েছে। ওই মেঘনাঘাট বিদ্যুত্ প্ল্যান্ট নির্মাণে লাইসেন্স দেওয়া হয় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে। তাই এ ক্ষেত্রে কথিত দরকষাকষির সুযোগ না থাকার কোনো প্রশ্ন আসে না। কমিশন বলেছে, মূল চুক্তির ভিত্তিতে ওই প্ল্যান্টের লাইসেন্স দেওয়া হয় এবং সে লাইসেন্স এখনও বহাল আছে। সংশোধিত বা পরিবর্তিত চুক্তির ভিত্তিতে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ তথা বিইআরসি (কশিমন) কোনো নতুন লাইসেন্স ইস্যু করেনি। আবার মূল লাইসেন্সও সংশোধন হয়নি। দরপত্রে বর্ণিত শর্তাধীনে প্রতিযোগিতা হয় এবং প্রতিযোগিতার ফলাফলের ভিত্তিতেই ‘বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তি’ সম্পাদিত হয়। প্রতিযোগিতার বাইরে ওই ক্রয় চুক্তির কোনো শর্ত বা শর্তাবলি পরিবর্তন করে ওই বিদ্যুত্ প্ল্যান্টে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদনের সুযোগ ছিল না।

৯.
এখানে বলা দরকার, ওই লাইসেন্স ইস্যুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় কমিশনের উন্মুক্ত সভায় বিভিন্ন শ্রেণির ভোক্তা প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে। ফলে সংশোধিত চুক্তির কোনো আইনি বৈধতা নেই। বৈধতাবিহীন ওই সংশোধিত চুক্তির কারণে গত অর্থবছরে বিদ্যুতের উত্পাদনে ক্ষতি/লোকসান বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় সাড়ে তেরশ’ কোটি টাকা। এ অর্থ কোম্পানির মুনাফার পাশাপাশি সরকারের কর ও লাভ বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি করেছে একদিকে, অন্যদিকে এ অর্থ জোগান দিতে ভোক্তাপর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিদ্যুত্ সচিবের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ফার্নেস অয়েল আমদানি ব্যয় হ্রাস মূল্যহারে ডিজেল অপেক্ষা অনেক বেশি সমন্বয় হওয়ায় উত্পাদন ব্যয় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতে অনেক কম, ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুতে অনেক বেশি। ফলে বিদ্যুত্ উত্পাদনে তরল জ্বালানি, বিশেষ করে ডিজেল ব্যবহার গুরুত্ব পাওয়ায় আর্থিক ঘাটতি আরও বেশি বাড়ছে। সে ঘাটতি সমন্বয়ে ভর্তুকি ও মূল্যহার উভয়ই বাড়ছে। বিদ্যুত্ উত্পাদনে ডিজেল ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ মূল্যহার হ্রাস যৌক্তিক না করায় ডিজেলে সরকারের লাভ হয় অনেক বেশি। আবার ফার্নেস অয়েলের তুলনায় সরকার ডিজেলে ট্যাক্স-ভ্যাটও বেশি পায়। আইন ও জনস্বার্থের পরিপন্থী হলেও এমন বিবেচনা থেকেই সরকার সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন মেঘনাঘাট বিদ্যুেকন্দ্রে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদনে সমর্থন দিচ্ছে।

১০.
‘বিদ্যুত্ খাত কাঠামোগত অন্যায় ও অনিয়মের শিকার’—এই বক্তব্যটি প্রমাণের জন্য আলোচ্য বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তির সংশোধনী; সে সংশোধনী বলে ফার্নেস অয়েলের পরিবর্তে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং এ বিষয়ে কমিশনের নির্দেশনা প্রতিপালিত না হওয়া—এই তিনটি ঘটনাই যথেষ্ট। সর্বোপরি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। এ তিনটি ঘটনায় আরও প্রমাণিত হয় যে, ওই প্রক্রিয়া প্রহসন ও প্রতারণায় পরিণত হয়েছে।     
লেখক : জ্বালানি উপদেষ্টা, ক্যাব