শনিবার ২০ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:১৩

আদালতের রায়ের পর নওয়াজের পদত্যাগ

Published : 2017-07-28 23:38:00, Updated : 2017-07-29 16:51:38
সকালের খবর ডেস্ক: সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে গতকাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হলেন নওয়াজ শরিফ। বহুল আলোচিত পানামা পেপারস মামলায় ‘প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার অযোগ্য’ ঘোষিত হওয়ার পর ঘণ্টাখানেকের মাথায় পদত্যাগ করেন তিনি। পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ও নওয়াজ পরিবারের সাবেক হিসাবরক্ষক ইসহাক দারকেও দায়িত্বে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে সুপ্রিমকোর্টের ওই রায়ে। বিবিসি, আলজাজিরা।
বিচারপতি এজাজ আফজাল খান রায়ে বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ থেকে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, একজন সত্ পার্লামেন্ট সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নওয়াজ শরিফের আর নেই। সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি আসিফ সাঈদ খোসা, বিচারপতি এজাজ আফজাল খান, বিচারপতি গুলজার আহমেদ, বিচারপতি শেখ আজমত সাঈদ ও বিচারপতি ইজাজুল আহসান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতের আদেশে নওয়াজ শরিফ, তার মেয়ে মরিয়ম, ছেলে হুসেইন ও হাসানের বিরুদ্ধে রেফারেন্স উল্লেখ করে তা জবাবদিহি আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী মুসলিম লিগের প্রধান শেখ রশীদ ও জামায়াতে ইসলামীর প্রধান সিরাজুল হকের একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত জানুয়ারিতে নওয়াজ শরিফের অর্থপাচারের অভিযোগের শুনানি শুরু হয় পাঁচ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে। গত এপ্রিলে আদালত বলেন, নওয়াজকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ নেই। এ সময় আদালত প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের দাবির পক্ষে তথ্য সংগ্রহ করতে যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) গঠনের আদেশ দেন। আদালতের দেওয়া গতকালের রায়ে নওয়াজের জামাতা মুহাম্মদ সফদারকে জাতীয় পরিষদের সদস্য পদে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে অর্থমন্ত্রী ইসহাক দারকেও।
অ্যাটর্নি জেনারেল অস্টার আউসফ আলী জানান, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজকে সারা জীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আর তার জীবত্কালে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।
গত বছর ফাঁস হওয়া পানামা পেপারসে নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম ও ছেলে হাসান-হুসেনের নাম আসে। তারা তিনজন ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত বিভিন্ন অফশোর কোম্পানির নামে লন্ডনে সম্পত্তি কিনেছেন বলে সেখানে তথ্য পাওয়া যায়, যার উল্লেখ তাদের ঘোষিত সম্পদ বিবরণীতে ছিল না।
নওয়াজ শরিফ ও তার সন্তানরা শুরু থেকেই তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। পরিবারের সব সম্পত্তিই বৈধ উপায়ে কেনা বলেও তাদের দাবি। যৌথ তদন্ত দলের জিজ্ঞাসাবাদেও প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার সন্তানরা একই কথা বলেন।
এর আগে ১৯৯০ ও ১৯৯৭ সালে দু’বার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও কোনোবারই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি নওয়াজ শরীফ। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফই পানামা পেপারসের প্রথম শিকার নন। এর আগে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীও পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন পানামা পেপারসে নাম আসার কারণে।
নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের পর ক্ষমতাসীন দল মুসলিম লিগ নওয়াজের ভাই পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল। তার আগের ১৭ জন প্রধানমন্ত্রীর কেউই তাদের পুরো মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।
এই রায়কে ঘিরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ইসলামাবাদের আদালত এলাকাসহ পুরো নগরীতে হাজার হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিচারক যখন রায় ঘোষণা করেন, তখন আদালত কক্ষে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। আদালতে আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি শেখ রশীদ ও জামায়াতে ইসলামীর প্রধান সিরাজুল হকও উপস্থিত ছিলেন। ফেডারেল সরকারের সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারাও আদালতে হাজির ছিলেন।

আরও খবর