শনিবার ২১ অক্টোবর, ২০১৭, সকাল ০৭:১৬

হাইড্রোপ্লানিংয়ের ফাঁদ থেকে বাঁচবেন কীভাবে

Published : 2017-07-24 23:55:00, Count : 1142
প্রদীপ কুমার মিস্ত্রী: রাস্তায় চলার জন্য টায়ার ছাড়া গাড়ি ভাবতেই পারি না আমরা। জানেন কি টায়ারের হাওয়ার প্রেশার কতটা জরুরি। এ ছাড়া টায়ারের ট্রেড গাড়ি গতি বৃদ্ধি বা নিয়ন্ত্রণে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টায়ার প্রেশার প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকলে দিক পরিবর্তনের সময় আপনাকে স্টিয়ারিং ঘুরাতে অতিরিক্ত শক্তি প্রদান করতে হয়। এটা তো গেল শারীরিক শ্রম। আপনার অজান্তে জ্বালানি খরচও বাড়ে, যা হয়তো আপনার নজরে পড়েনি। বেশিরভাগ গাড়িচালক টায়ার প্রেশারের বিষয়টি মোটেও গুরুত্ব দেন না বা গাড়ি প্রস্তুতকারকের টায়ার প্রেশারের নির্দেশাবলি কখনও দেখেন না। সাধারণত গাড়ি ড্রাইভিংয়ের দরজা খুললে বি পিলারের সঙ্গে লাগানো নির্দেশিকার প্রয়োজনীয় টায়ার প্রেশার এবং টায়ার সাইজ লেখা থাকে।
খুব কম সংখ্যক চালক নির্দেশাবলি মেনে চলেন। বেশিরভাগ চালক রাস্তার পাশে ভলকানাইজিং দোকানের দোকানির মাপের ওপর নির্ভর করে থাকেন। টায়ার এবং টায়ার ট্রেড সম্পর্কে বিস্তারিত না বললে গুরুত্ব হারাবে।
টায়ারের তৈরি সাল একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ রাবার কম্পাউন্ডের বন্ডিং ক্ষমতা একটা নির্দিষ্ট সময় পর হারাতে থাকে। প্রত্যেক টায়ারের গায়ে তৈরি সাল লেখা থাকে, যা আমরা অনেকে জানি না। আপনাদের বোঝার সুবিধার জন্য নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করুন।
টায়ারের সাইড ওয়ালে তৈরি সাল এম্বুস করা থাকে। এখানে ৪৭ সপ্তাহ অর্থাত্ নভেম্বর মাস এবং ৮ অর্থাত্ ২০০৮। অর্থাত্ টায়ারের তৈরি সাল হচ্ছে নভেম্বর ২০০৮। একটি টায়ারের ট্রেড বা খাঁজ কাটার নকশার প্রয়োজনও জানা জরুরি।
১। রাস্তাকে আঁকড়ে ধরা।
২। কমপ্রেশড এয়ার, তরল বা পানি নিষ্কাশনের পথ করে দেওয়া।
৩। মোটরযানের ভার বহন ক্ষমতাকে সহযোগিতা করা।
৪। ব্রেকিং অ্যাকশনকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করা।
৫। টায়ারকে ঠাণ্ডা রাখা।
এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে প্রতি মাসে একবার করে টায়ার প্রেশার মেপে নিন এবং টায়ার ট্রেডের ক্ষয়ের পরিমাণ পরীক্ষা করুন। প্রতি তিন মাস অন্তর টায়ার রোটেশন করবেন।
এবার আসি হাইড্রোপ্লানিং প্রসঙ্গে। আমরা জানি, বায়ুকে সঙ্কোচিত করা সম্ভব। কিন্তু তরল পদার্থকে সঙ্কোচিত করা সম্ভব নয়। গাড়ি যখন রাস্তায় চলে তখন রাস্তা এবং টায়ারের মাঝে থাকে বায়ু, ফলে টায়ার অনায়াসে বায়ুকে সঙ্কুচিত করতে পারে। গাড়ি  চালানোর সময় খেয়াল করে দেখবেন আপনার সামনের গাড়ি চলার সময় রাস্তায় পড়ে থাকা ধুলাবালু উড়তে থাকে। অর্থাত্ টায়ারের নিচের সঙ্কোচিত বাতাস টায়ার ট্রেডের ফাঁক দিয়ে সজোরে বের হয়ে আসে, ফলে রাস্তার ধুলাবালুগুলো উড়তে থাকে। হাইড্রোপ্লানিং তখনই ঘটে, যখন রাস্তা এবং টায়ারের মাঝে তরল পদার্থ বা পানি পড়ে। বৃষ্টির সময় পানি রাস্তা এবং টায়ারের মাঝে একটি দেওয়াল তৈরি করে, ফলে টায়ার ট্রেড বা খাঁজ কাটা নকশার কার্যকর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আগেই বলেছি যে, তরল পদার্থকে সঙ্কোচিত করা যায় না। তাই টায়ার রাস্তা আঁকড়ে ধরতে পারে না, ফলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে। এই অবস্থা এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা বৈজ্ঞানিকদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
আর বৃষ্টির সময় হাইড্রোপ্লানিংয়ের মাত্রা নির্ভর করে গাড়ির গতির ওপর, গাড়ির গতি যত বেশি তত বেশি হাইড্রোপ্লানিংয়ের ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা। মনে রাখবেন হাইড্রোপ্লানিং কোনো উন্নত ব্রেক পদ্ধতি বা স্টিয়ারিং প্রযুক্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
হাইড্রোপ্লানিংয়ের সাতটি কারণ :
১। বৃষ্টির মধ্যে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো।
২। রাস্তার জলাবদ্ধতা।
৩। ক্ষয় হয়ে যাওয়া টায়ার মোটরযানে ব্যবহার করা।
৪। বৃষ্টিভেজা রাস্তা মসৃণ হয়ে পড়া।
৫। বৃষ্টিভেজা রাস্তায় দ্রুত দিকে পরিবর্তন করা।
৬। সঠিক টায়ার প্রেশার না থাকা।
৭। সঠিক মাপের টায়ার ব্যবহার না করা।
একটু সাবধান থাকলেই আপনিও হাইড্রোপ্লানিংয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
১। খুব সতর্ক থাকবেন বৃষ্টি শুরুর প্রথম কয়েক মিনিট।
২। গাড়ির গতি কমিয়ে দেবেন।
৩। রাস্তায় জমে থাকা পানি এড়িয়ে চলবেন।
৪। গাড়ির ক্রজ কন্ট্রোল থাকলে ক্রজ কন্ট্রোল বন্ধ করে গাড়ি চালাবেন।
৫। লো গিয়ারে গাড়ি চালাবেন।
৬। নিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালাবেন এবং প্রয়োজনে ব্রেকে হালকা চাপ প্রয়োগ করবেন। কখনও ব্রেক প্যাডেলে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করবেন না, এতে গাড়ি ঘুরেও যেতে পারে।
৭। স্টিয়ারিং বেশি কাটবেন না গাড়ি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যেতে পারে।