শনিবার ২০ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৮:৫০

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম

Published : 2017-07-23 00:02:00
কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ছাত্রাবস্থায় তিনি অসহযোগ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন এবং এখানেই তাঁর শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটে। তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচিত সদস্য হিসেবে আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্ব, ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু। মানবচরিত্রের নানা জটিলতা ও নিগূঢ় রহস্য তাঁর উপন্যাসে জীবন্তভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি নিজে জমিদার বংশের সন্তান হয়ে কাছে থেকে দেখেছেন কীভাবে জমিদারি ক্রমশ বিলুপ্ত হয়; পাশাপাশি নব্য ধনিক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে এবং দিকে দিকে কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। সমাজের এ নীরব পরিবর্তন তাঁর রচনায় নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তারাশঙ্করের রচনার আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল তিনি পরম যত্নের সঙ্গে মানুষের মহত্ত্বকে তুলে ধরেছেন। শরত্চন্দ্রের পরে কথাসাহিত্যে যাঁরা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তারাশঙ্কর ছিলেন তাঁদের একজন।
তারাশঙ্কর প্রায় দুইশ’ গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলোর মধ্যে চৈতালী ঘূর্ণি, জলসাঘর, ধাত্রীদেবতা, কালিন্দী, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম, কবি, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তিনি অনেক গল্পও লিখেছেন। বেদে, পটুয়া, মালাকার, লাঠিয়াল, চৌকিদার, বাগদী, বোষ্টম, ডোম ইত্যাদি সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র তাঁর গল্পে দক্ষতার সঙ্গে অঙ্কিত হয়েছে। রসকলি, বেদেনী, ডাকহরকরা প্রভৃতি তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প। তারাশঙ্করের গল্পের সঙ্কলন তিন খণ্ডে সাহিত্য সংসদ কর্তৃক প্রকাশিত (১৯৭৭-১৯৭৯) হয়েছে। তাঁর দুই পুরুষ, কালিন্দী, আরোগ্য নিকেতন ও জলসাঘর অবলম্বনে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। ১৯৭০ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শরত্স্মৃতি পুরস্কার’ ও ‘জগত্তারিণী স্মৃতিপদক’ লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি ভারত সরকারের ‘পদ্মশ্রী’ ও ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতেও ভূষিত হন। ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।