মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৫:৩৯

কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ: এর প্রকৃত কারণ বের করা জরুরি

Published : 2017-07-21 22:13:00
সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়িয়েছে। সদ্যসমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কৃষি খাতে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১২০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত অর্থবছরে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা আর ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ২০ হাজার ৯৯৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরেও কৃষি খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ ঋণ বিতরণ বেশি ছিল। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, গত অর্থবছরে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৪০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা বিতরণ হওয়া মোট ঋণের ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। এর আগের অর্থবছর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। সুতরাং এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। আমাদের দেশে ঋণখেলাপির সংস্কৃতি বহু পুরনো। তাই বলে শুধু কৃষি খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণের বিষয়টিকে মোটেই স্বাভাবিক বলা যায় না।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ খাতের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগসমূহ প্রশংসাযোগ্য। স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে কৃষকের মাঝে ঋণ বিতরণ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কৃষি খাতে ঋণ দিয়ে তা যদি আদায় না হয় বা কৃষকরা যদি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তাহলে এ খাতে উন্নয়নের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে বৈকি? কেননা উন্নয়ন যথাযথ হলে কৃষকরা কেন ঋণ ফেরত দেবে না? আবার বরাদ্দ ঋণের সবটুকু প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে কি না, এ বিষয়ে দ্বিধা থেকেই যায়। আমরা মনে করি, কৃষি খাতে ঋণখেলাপির প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন। এর ফলে পরবর্তী সময়ে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে আরও কৌশলী হওয়া যাবে; দেশের ব্যাংকিং খাতে লোকসান কমানোর জন্য সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করাটাও সহজ হবে।
কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জোর তত্পরতা আমরা লক্ষ করেছি। তা ছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোও এ খাতে ঋণ বিতরণে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। কিন্তু শুধু ঋণ বিতরণই যথেষ্ট নয়, ঋণের টাকা কৃষকের হাতে যাচ্ছে কি না, ঋণের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি না-সে বিষয়ে তদারকি করা দরকার। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ ঋণ যেন অন্য খাতে না যায়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
শুধু কৃষি খাতেই নয়, দেশের সার্বিক উন্নয়নে বরাদ্দকৃত ঋণের যথাযথ ব্যবহার হওয়াটাই কাম্য। তাই খেলাপি ঋণ সহনীয় রাখতে এবং পর্যায়ক্রমে এই অপসংস্কৃতি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকাটাও জরুরি।