মঙ্গলবার ২৫ জুলাই, ২০১৭, দুপুর ১২:৪০

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সঙ্কট: প্রবাসী শ্রমিকদের সহযোগিতার উদ্যোগ নিন

Published : 2017-07-17 23:46:00, Count : 57
জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে চলছে। দেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের পাকড়াওয়ের অভিযান চলছে এবং সে অভিযানের শিকারে পরিণত হয়েছেন কয়েক লাখো বাংলাদেশি।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে বর্তমানে প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন বিভিন্ন খাতে। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন অবৈধ। এসব অবৈধ শ্রমিক প্রথমে সাময়িক ওয়ার্ক অর্ডার নিয়ে কাজ শুরু করলেও পরে দেশটির সরকার তাদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দেয়। অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রায় ৭২ হাজার বৈধ হওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। বাদবাকিরা তাদের নাম নিবন্ধন করতে পারেননি। মূলত দালাল চক্র এবং নিয়োগকারীদের অনীহার কারণেই বঞ্চিত হয়েছেন তারা। নিয়মানুযায়ী নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিককে সশরীরে ইমিগ্রেশনে হাজির হয়ে যাবতীয় তথ্য দিতে হয়। সেক্ষেত্রে অনেক নিয়োগকারী তাদের শ্রমিককে এই সুযোগ দেয়নি। অন্যদিকে প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাসের ব্যর্থতার কথাও উঠে এসেছে।
আমরা লক্ষ করেছি, প্রবাসে শ্রমিক প্রেরণের শুরু থেকে কয়েক স্তরে দালালদের আধিপত্য থাকে। সরকার অল্প খরচে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি করলেও কিছু লোভী এজেন্সি ও দালাল চক্রের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। আবার ভিটেমাটি বিক্রি করে কাজের আশায় বিদেশে পাড়ি জমালে সেখানেও অনেক প্রবাসী শ্রমিকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র। পত্রপত্রিকায় এসেছে, মালয়েশিয়াতেও এসব দালাল চক্র সক্রিয়। মূলত তাদের কারণেই মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, দালালদের অপতত্পরতার কারণে মালয়েশিয়ার বাজারে আবারও শ্রমিক রফতানির সুযোগ হারাতে হতে পারে, এমন আশঙ্কাও থেকে যায়। তাই প্রবাসে শ্রমিক প্রেরণের সকল পর্যায়ে দালালদের দৌরাত্ম্য রোধ করতে হবে।
জনশক্তি রফতানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, সে দেশে হাইকমিশনের লেবার কাউন্সিল বিভাগের অদক্ষতার কারণে অবৈধ শ্রমিকরা বৈধ হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা যদি সত্যিকারের ‘ক্যাম্পেইন’ করত তাহলে আরও অনেক অবৈধ শ্রমিক বৈধ হতে পারতেন। হাইকমিশনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের ব্যাপারে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত। মনে রাখতে হবে, প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমবাজার ধসে পড়লে দেশের অগ্রগতিও থেমে যাবে। তা ছাড়া দালালদের খপ্পরে পড়ে যেসব প্রবাসী কর্মী বৈধ হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। তাদেরকে বৈধ করার জন্য দ্বিপাক্ষিকভাবে কূটনৈতিক তত্পরতা অব্যাহত রাখতে হবে।
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিকদের সঙ্কটের জন্য সে দেশের সরকারকে দোষারোপের কোনো সুযোগ নেই। কারণ তারা তো বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। তাই এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। জনশক্তি রফতানি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত করতে পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনও জরুরি। সরকার মালয়েশিয়া প্রবাসী শ্রমিকদের সহযোগিতার জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।