বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৭, রাত ১২:১৮

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ত্রুটি এবং আমাদের করণীয়

Published : 2017-07-17 23:46:00,
মাছুম বিল্লাহ: উচ্চশিক্ষার পথ আরও প্রশস্ত করতে আমাদের দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ সালে। এর পরে এক দশকেরও বেশি সময় যে ক’টি চালু করা হয়েছিল সে ক’টি মোটামুটি ভালোভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল। তারপর থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নেমে যেতে শুরু করে। এর মূল কারণ দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। শাখা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাধ্যমে দেশে শুরু হয় শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য। সেই বাণিজ্য ঠেকাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০১০ সালে সরকারকে নতুন একটি ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ প্রণয়ন করতে হয়। ২০১০ সালের আইনটি প্রয়োগের ফলে দেশের যত্রতত্র গড়ে ওঠা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শাখা ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরদারি অনেক কঠিন ও কঠোর হয়েছে। মাঝে মাঝে ইউজিসি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা পরিচালনা করে থাকে, যেগুলোর রিপোর্ট আমাদেরকে ভাবিয়ে তোলে।
২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৪২ হাজার ৮৭৯ টাকা। অর্থাত্ এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীপ্রতি দ্বিগুণের বেশি ব্যয় করলেও গ্রন্থাগারের জন্য কোনো নতুন বই সংগ্রহ করেনি। দুই যুগের পুরনো এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে বইয়ের সংখ্যা এখনও ১৮ হাজারের কম। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই অবস্থা দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। গ্রন্থাগারের উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। ফলে চাহিদামতো নতুন বই সংগ্রহ করতে পারে না গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ। এছাড়া যে হারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বেড়েছে সে অনুযায়ী গড়ে উঠছে না গ্রন্থাগার অবকাঠামোও। সব মিলিয়ে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই অবহেলিত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগারের রুগ্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে আইইউবিএটির প্রধান গ্রন্থাগারিক বলেন, ‘বই কেনার বিষয়টি আমার ওপর নির্ভর করে না। শিক্ষকদের দেওয়া চাহিদাপত্র অনুযায়ীই বই কেনা হয়।’ প্রতি শিক্ষাবর্ষেই শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী নতুন বই সংগ্রহ করছে না অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্যমতে, ২০১৪ সালে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীপ্রতি বই সংগ্রহ করে গড়ে ৪ দশমিক ৩৫টি। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা না বেড়ে উল্টো কমেছে। ওই বছর মাথাপিছু বইয়ের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ২৫টিতে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বই, জার্নাল, ই-বুকের মতো উপকরণগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গবেষণার ক্ষেত্রে মৌলিক বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের রেফারেন্স বইয়ের প্রয়োজন হয়। উচ্চমূল্য ও দুষ্প্রাপ্যতার কারণে অনেক সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষে এসব বই কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এসব বই গ্রন্থাগারে সংগ্রহ করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাজ। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গ্রন্থাগার খাতটি অবহেলার শিকার।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারগুলোয় বইয়ের সংখ্যা কম থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, এক লাখের ওপর বই সংগ্রহে থাকা একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হল আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। ৫০ হাজারের মতো বই সংগ্রহ রয়েছে মাত্র ছয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। এছাড়া ২০ হাজারের কম বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে ১৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজারের কম বই সংগ্রহ রয়েছে। এমনকি এমন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলোতে সংগৃহীত বইয়ের সংখ্যা পাঁচ হাজারেরও কম। এগুলোকে কোন ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয় বলা যাবে বা আদৌ বিশ্ববিদ্যালয় বলা যাবে কি না সে বিষয়টিও ভেবে দেখার সময় এসেছে। গ্রন্থাগার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অমনোযোগিতাকে উচ্চশিক্ষার মান অবনমনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগারের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। বাংলাদেশে এ চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেটে সবচেয়ে অবহেলিত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গ্রন্থাগার। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করলেও তা শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করে না।’ অবশ্য মোটা অঙ্কের টিউশন ফি আদায়ের কিছু যৌক্তিক কারণও আছে, যেগুলো আমরা অস্বীকার করতে পারব না।
ভাড়া বাড়িতে ক্যাম্পাস পরিচালনাকে গ্রন্থাগার সমস্যার অন্যতম কারণ বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। একটি ভবন বা দুয়েকটি ফ্লোর ভাড়া করে পরিচালনা করা হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। একটি গ্রন্থাগারে বই রাখার পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বসার জন্য আসন স্থাপনের প্রয়োজন হয়, যা ভাড়া করা বাড়িতে সম্ভব হয় না। গ্রন্থাগার সঙ্কটের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মনোযোগের অভাব রয়েছে গবেষণা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রেও। ২০১৫ সালে ২৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। এসব প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে রয়েছে প্রকাশনার ক্ষেত্রেও। ২০১৫ সালে ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ধরনের প্রবন্ধ বা সাময়িকী প্রকাশ করেনি। গ্রন্থাগার, গবেষণা ছাড়াও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে সমস্যা। ইউজিসির তথ্যানুযায়ী দেশের ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৯টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে, এর মধ্যে ৪৩টিতে উপাচার্য নেই, ৫৩টিতে কোষাধ্যক্ষ নেই। সহ-উপাচার্য নেই ৭৫টিতে। আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির তথ্য বলছে, দশ থেকে বারোটি বিশ্ববিদ্যালয় ভালোভাবে চলছে আর ২০ থেকে ২৫টি মান ভালো করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; বাকিগুলোর অবস্থা করুণ। গত ২০ জুন ইউজিসি ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা তুলে ধরে এগুলোতে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে গত তিন বছরে এই পরিস্থিতির ক্রমাবনতি হয়েছে। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তখন ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও ৪৮টিতে কোষাধ্যক্ষ ছিল না। এখন সংখ্যাটি আরও বেড়েছে। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মনীতি ছাড়াই নিজেদের পছন্দের কাউকে উপাচার্যের চেয়ারে বসিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। ইউজিসি বলছে ৩৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো মানের উপাচার্য দেওয়ার মতো অধ্যাপক পাওয়া যায় না। আবার অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকেরা চান নিজেদের আজ্ঞাবহ ব্যক্তিদের উপাচার্য করতে। এজন্য তারা এমনভাবে প্রস্তাব পাঠান যাতে প্রায়ই ত্রুটি থাকে এবং নিয়োগ দিতে বিলম্ব হয় অথবা পদ খালি রাখতে হয়।
অধিকাংশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ভাড়া করা বাড়িতে অবস্থিত, এটি একটি জাতীয় বাস্তবতা। যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে; সে হারে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাড়ছে। এ ধরনের সব প্রতিষ্ঠানের জন্যই খোলামেলা জায়গা, উন্মুক্ত স্থান দরকার, সেটি একটি আদর্শিক অবস্থা। কিন্তু এখনকার বাস্তবতা কী? আমরা সব প্রতিষ্ঠানের জন্যই যদি আলাদা আলাদা খালি জমি চাই তাহলে দেশে চাষযোগ্য জমি কতটুকু থাকবে? এই বাস্তবতায় নতুন আইন এবং বিকল্প ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যেমন খেলার মাঠ, উন্মুক্ত জায়গা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে কমন থাকা উচিত, এছাড়া উপায় নেই। কোথায় এত জমি? একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে এক একর জমির কথা বলা হয়েছে তা কি রাজধানী কিংবা বিভাগীয় শহরে একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব? এছাড়া প্রচুর অর্থ বিলিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি সমস্ত হাইওয়ের পাশে জমি কিনে ধানের জমি সঙ্কুুচিত করে ফেলেছে। তারা শিল্পকারখানা গড়ে তুলছে, সেগুলোরও তো প্রয়োজন রয়েছে। দেশ প্রতি বছর এক শতাংশ হারে ফসলি জমি হারাচ্ছে। এই বাস্তবতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যে পরিমাণ জমির কথা বলা হয়েছে তা কতটা সম্ভব আমাদের দ্বিতীয়বার ভেবে দেখতে হবে। ভারতে সরকার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কম মূল্যে জমি কেনার সুযোগ করে দেয়, কোথাও কোথাও খাস জমি বরাদ্দ দেয়। আমাদের দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার পরিবর্তে সমালোচনাই থাকে বেশি।
আমাদের মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৫ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাইভেট খাতে পরিচালিত হয়। সেখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস কয়েকশ’ বছরের পুরনো। ১৯৩৬ সালে হার্ভাড, ১৭০১ সালে ইয়েল, ১৭৪৬ সালে প্রিন্সটন ও ১৭৫৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। আর আমাদের এই ইতিহাস মাত্র ২৬ বছরের। কাজেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাফল্য দেখতে হলে আমাদের আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের দেশের অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্লাব আছে। ক্লাবগুলো চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে, যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নেই। গবেষণার কথা আমরা জানি অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করা হয় না। এক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও যে খুব এগিয়ে নেই সে কথাটিও সত্য। গবেষণা কোথায় হয়? জাতীয় পর্যায়ে তার ইমপ্যাক্ট কোথায় বা কতটুকু? তাছাড়া ছাত্ররাজনীতি ও শিক্ষকরাজনীতি তো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম এবং মানকে নিম্নগামী করার ক্ষেত্রে বেশ বড় অবদান রাখছে। তা কি আমরা অস্বীকার করতে পারব?
অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান, গুণ ও সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে না পারলেও সরকার নতুন নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় চার লাখ। বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে প্রায় ৯ বছরে ৪১টি নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় আরও কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়ার জোর তদবির চলছে। সরকার প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে পাবলিক কিংবা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার মনোভাব ব্যক্ত করায় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক শ্রেণি উঠেপড়ে লেগেছে এই ব্যবসায় শামিল হতে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি ব্যবসা করবে না আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করবে। দ্বিতীয়টি হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে হবে, কিছু কিছু আইন সংশোধন করতে হবে এবং প্রকৃত ফিডব্যাক দেওয়ার মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করতে হবে। তাহলে আমরাও উন্নত বিশ্বের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশ্বমানের শিক্ষাদান করতে সমর্থ হব। কাজেই শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়।
লেখক : শিক্ষক
masumbillah65@gmail.com