মঙ্গলবার ২৫ জুলাই, ২০১৭, দুপুর ১২:৪০

ভাড়াভিত্তিক নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র:২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার তত্পরতা

Published : 2017-07-17 23:15:00, Count : 186
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে বেসরকারি খাতে নতুন আরও ১৭-১৮টি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত্ প্রকল্প স্থাপনে ২০ হাজার কোটি টাকার ব্যাংকঋণ নেওয়ার তত্পরতা শুরু হয়েছে। এই অর্থায়নে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনে ব্যাংক কোম্পানি আইনও সংশোধন করা হতে পারে। গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আগামী ছয় মাসের মধ্যে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ (২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ২৬ (খ) ১ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক একজন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারে না। এখন এত বিশাল অঙ্কের ঋণ জোগান দিতে হলে ব্যাংকগুলোকে একক গ্রাহক ঋণসীমা অতিক্রম করতে হবে। এমতাবস্থায় ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে গত ৪ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনে ব্যাংক অর্থায়ন নিশ্চিতে কাজ করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও পরামর্শ চাওয়া হয়েছে, যাতে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে পর্যালোচনা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনে কোনো একক ব্যক্তি বা গ্রুপকে মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ দেওয়া যায় না। তবে সরকার যদি গ্যারান্টার হয় তাহলে মূলধনের ৪০-৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ আছে। সুতরাং সরকার গ্যারান্টি দিলে আইন পরিবর্তন না করেও বেশি ঋণ দেওয়া যাবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়,
সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে চায়। বর্তমানে উত্পাদনের সক্ষমতা ১৫ হাজার মেগাওয়াট। এজন্য বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগও অর্থায়নের সব বাধা দূর করার পরামর্শ দিয়েছে। এখন ব্যাংকিং আইনটি এতে কোনো বাধা হতে পারে কি না তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে সোনালী ব্যাংক কোনো একক প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৪৭৪ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারে। একইভাবে জনতা ব্যাংক পারে ৯৭৫ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৫৭১ কোটি এবং রূপালী ব্যাংক ২৯৭ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অন্তত ১৫টি ব্যাংক একক প্রকল্পে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার ঋণ দিতে পারে। কিন্তু ১০০ মেগাওয়াট একটি নতুন বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনে ব্যয় হয় ৬৫০ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সকালের খবরকে বলেন, ব্যাংকগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক যেসব বিধি-বিধান রয়েছে তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো অনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা ঠিক হবে না। বিশেষ উদ্দেশ্যে কোনো সুযোগ দেওয়া হলে সেখানে বিশেষ ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এতে করে কোনো একটি বা দুটি ব্যাংক বিপাকে পড়তে পারে। এমতাবস্থায় তিনি কয়েকটি ব্যাংক একত্রিত হয়ে বড় প্রকল্পে সিন্ডিকেট ঋণ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

 

আরও খবর