মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর, ২০১৭, সন্ধ্যা ০৭:৫৫

হাবিপ্রবিতে উটপাখির খামার

Published : 2017-07-17 23:04:00,
দিনাজপুর প্রতিনিধি: ‘মরুভূমির জাহাজ’ বলে খ্যাত উটপাখির খামার এখন বাংলাদেশে! হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভেটেরিনারি অনুষদের অভিটোরিয়াম-২-এর পাশে এই খামার গড়ে তোলা হয়েছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উটপাখি বেশি দিন বাঁচে এবং বেশি দিন ডিম দেয়। এর মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। তাই তা পালন লাভজনক। উটপাখি নিয়ে গবেষণা ও পালনে সাফল্যের এ খবর জানালেন প্রধান গবেষক ও হাবিপ্রবির জেনেটিক্স অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবদুল গাফফার মিয়া।
গবেষণারত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক জানান, দু’মাস বয়সে গত বছরের নভেম্বর মাসে হাবিপ্রবিতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসব উটপাখি আনা হয়েছে। ১১টি বাচ্চা আনা হলেও প্রথমদিকে বিভিন্ন কারণে কয়েকটি
মারা যায়। বর্তমানে সাতটি উটপাখি রয়েছে। বাচ্চাগুলো পূর্ণবয়স্ক হতে প্রায় আড়াই বছর লাগে এবং সেই সময় থেকে ডিমও পাড়ে। একেকটি ডিম দেড় কেজি ওজনের হয়ে থাকে। বছরে একেকটি উটপাখি ৬০-১০০টি ডিম পাড়ে।
তারা জানান, উটপাখি সাধারণত ২-৪ বছর বয়সে প্রজননক্ষম হয়। বেড়ে ওঠা ও উত্পাদন প্রক্রিয়া গরু-ছাগলের চেয়ে বেশি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির মাংস প্রায় আড়াই মণ হয়। এদের খাদ্য সহজলভ্য। এরা নেপিয়ারসহ যেকোন ঘাস, পোল্ট্রি ফিড ও পাথর খায়। তবে এদের বিচরণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা লাগে। হাবিপ্রবির খামারে এখন পর্যন্ত কোনো রোগ দেখা যায়নি।
গবেষণারত ডা. মো. রোকনুজ্জামান জানান, উটপাখির চামড়া মূল্যবান। এদের মাংস আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত উপাদেয় খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। একটি প্রাপ্তবয়স্ক উটপাখির ওজন ৬০-১৫০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া অন্যান্য প্রাণীর মাংসের তুলনায় উটপাখির মাংসে চর্বির পরিমাণ ৩ শতাংশের কম ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকায় স্বাস্থ্যসচেতন লোকজন উটপাখির মাংস গ্রহণে আগ্রহী।
প্রধান গবেষক ও জেনেটিক্স অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবদুল গাফফার মিয়া জানান, উটপাখি নিয়ে গবেষণায় আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় তাদের বৃদ্ধি ঠিকই আছে। বছরে একটি উটপাখি ৬০-১০০টি ডিম পাড়ে। এর মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি সফল উত্পাদন হয়। অন্যদিকে গরু বছরে একটি মাত্র বাছুর দেয়। একটি উটপাখির বাচ্চার দাম ৩০-৩৫ হাজার টাকা। তাই বলা যায়, গরু পালনের চেয়ে উটপাখি পালন বেশি লাভজনক। উটপাখি ৫০-৭০ বছর উত্পাদনক্ষম থাকে এবং এরা বাঁচে কমপক্ষে ৮০-১০০ বছর। এদের গ্রোথ (বেড়ে ওঠা) এবং উত্পাদন প্রক্রিয়া গরু-ছাগলের চেয়ে বেশি। তাই বাণিজ্যিকভাবে উটপাখির খামার আমাদের দেশে লাভজনক হবে।
তিনি আরও জানান, অনেকেই উটপাখির খামার করার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখির খামার গড়ে উঠলে গরুর বিকল্প হয়ে দাঁড়াবে।