মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, রাত ১০:১৪

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা: ভোটার হতে মা-বাবার এনআইডি লাগবে

Published : 2017-07-17 23:03:00, Count : 97
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে ৩০টি উপজেলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এসব এলাকায় ভোটার হতে হলে ভোটার হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে তার মা-বাবা, ফুফু-চাচার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয় সভা শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
ইসি সচিব জানান, আগে দেশের ২০টি উপজেলা ছিল বিশেষ এলাকা। এবার আরও ১০টি এলাকা চিহ্নিত করেছি। এই ৩০টি এলাকার জন্য বিশেষ কমিটি রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার প্রবণতা রোধে এসব বিশেষ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন করে কোন ১০টি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সচিব তা তিনি উল্লেখ করেননি।
তালিকায় রোহিঙ্গা প্রবেশের বিষয়ে সচিব জানান, বিশেষ এলাকার যে কার্যপরিধি রয়েছে, সেখানে কমিটির কাজ নির্ধারিত করা
আছে। বিদেশি নাগরিকরা যাতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে তারা পদক্ষেপ নিতে পারবেন। বিশেষ এলাকায় ভোটার হতে চাইলে কমিটি ভোটারের মা-বাবার আইডি দেখবে, ফুফু-চাচার আইডি দেখবে। এসব না থাকলে বা বিদেশি নাগরিক প্রমাণ পেলে কোনো লোক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না।
তিনি জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদনের জন্য সাত পর্যায়ে সাত ধরনের কমিটি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি, বিভাগীয় কমিটি, জেলা,-উপজেলা, বিশেষ এলাকার জন্য আলাদা কমিটি, সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য কমিটি, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার জন্য কমিটি আছে। এবারের ভোটার তালিকায় বাদ পড়া ৩৫ লাখ ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। সারাবছরই যে কাউকে নতুন করে ভোটার তালিকাভুক্ত করা যাবে। এছাড়া যে কেউ সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন, সংযোজন-বিয়োজন করতে পারবেন। কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে যেকোনো সময় উপজেলা নির্বাচন অফিসে এসে আবেদন করতে পারবেন।
নারী ভোটার বাড়ানোর বিষয়ে ইসি সচিব জানান, নারী ভোটার বাড়ানোর জন্য আমরা বিশেষ উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী এবং সচিবের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। এছাড়া নারী নেতৃত্বে যারা রয়েছেন, বিশেষ করে নারী জনপ্রতিনিধি ও এনজিও কর্মীদের কাছে এই কার্যক্রমে আমরা সহযোগিতা চেয়েছি। সভায় সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২৫ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হালনাগাদ কাজ শুরু হবে। যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ২০০০ বা তার আগে অর্থাত্ আগামী ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, এবার তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তথ্য সংগ্রহের পর তিনটি ধাপে ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকদের ছবি ও তথ্য নিবন্ধন করা হবে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর সংগৃহীত তথ্য ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্তকরণ, ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। আগামী বছরের ২-১৫ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকার ওপর সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষের দাবি-আপত্তি গ্রহণ, ১৬-২০ জানুয়ারি দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তিকরণ, ২১-৩০ জানুয়ারি, চূড়ান্ত তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্তকরণ, ৩১ জানুয়ারি হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, আগামী জুন থেকে ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার জন্য ভোটার তালিকা মুদ্রণ, ছবিসহ ও ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রণয়ন ও বিতরণ করা হবে।