সোমবার ২৩ অক্টোবর, ২০১৭, রাত ১১:১৮

খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ

Published : 2017-07-16 23:21:00, Count : 132
সকালের খবর ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন সফর করছেন। সেখান থেকে ফিরে সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন তিনি। ফলে তার এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ডয়চে ভেলে।
খালেদা জিয়ার এই সফরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নীতিনির্ধারকরা চান, খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর যেন পারিবারিক সফরের ভেতরই সীমাবদ্ধ থাকে। বিএনপিও এই সফরকে পারিবারিক ও চিকিত্সা সংক্রান্ত সফরই বলছে। এর সঙ্গে রাজনীতিকে মেলাতে চান না তারা। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পরই এ বিষয়ে বলা যাবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, নেত্রী চোখ ও পায়ের চিকিত্সার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন। লন্ডনে তার বড় ছেলে তারেক রহমান রয়েছেন। সেখানে তিনি ছেলে ছাড়াও নাতনিদের সঙ্গে দেখা করবেন।
তিনি বলেন, তারেক রহমান তো বিএনপির সিনিয়র ভাইস  চেয়ারম্যান। ফলে তাদের দুজনের দেখা হলে রাজনীতি নিয়ে তো কিছু আলোচনা হতেই পারে। সেটাকে অত বড় করে দেখার কিছু নেই। তাই এটাকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক সফর না ভেবে চিকিত্সা ও পারিবারিক সফর হিসেবে দেখাই  শ্রেয়। আর দেশে তো রাজনীতি করার কোনো পরিবেশই  নেই। ফলে এসব আলোচনা অবান্তর।
এদিকে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, খালেদা জিয়ার এই সফর পারিবারিক হলেও তিনি লন্ডন যাচ্ছেন দুটি টার্গেট নিয়ে। এগুলো হল-আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ও বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করা। তাদের ধারণা, এই সফরে মিডিয়ার সঙ্গে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি ও চড়া মূল্যে লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করতে পারেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া এই সফরে হতে পারে একাদশ সংসদ নির্বাচন ভণ্ডুল করার শলাপরামর্শও। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপাতত লন্ডনকে নিরাপদ মনে করে সেখানে যাচ্ছেন তিনি।
তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ডয়চে ভেলেকে বলেন, খালেদা জিয়ার এই সফর নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ তারা তো আর বিএনপির রাজনীতি করেন না। আওয়ামী লীগ জনগণের রাজনীতি করে, জনগণকে নিয়েই আওয়ামী লীগের চিন্তা।
উল্লেখ্য, দেশে হুলিয়া থাকায় ছেলের সঙ্গে প্রবাসেই খালেদা জিয়া সাক্ষাত্ করছেন গত এক দশক ধরে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলে আসছেন, প্রবাসে থাকা সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেকের ইশারায়ই বিএনপি পরিচালিত হয়। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা ও আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার আগে খালেদার এই লন্ডন সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ। লন্ডন যাওয়ার আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক করেন খালেদা জিয়া, যেখানে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
খালেদা জিয়া কবে নাগাদ ফিরবেন-এমন প্রশ্নে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এটা নির্ভর করবে তার চিকিত্সার ওপর। সবশেষ ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া লন্ডন গিয়েছিলেন। সেবার তারেকসহ পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করেই দেড় মাস পর ফিরেছিলেন তিনি। তারেক ও তার স্ত্রী-কন্যা ছাড়াও প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই সন্তানও তখন লন্ডনে ছিলেন। এবার কোরবানির ঈদ হবে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। যদি ঈদ করে খালেদা জিয়া দেশে ফেরেন তাহলে দেড় মাসের বেশি সময় বাইরে থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, খালেদা জিয়ার সফর নিয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না। উনি দেশে ফিরে এলে বোঝা যাবে সেখানে তিনি কী করেছেন। আর আওয়ামী লীগ নেতারা তো উন্নয়নের নামে এখনই ভোট চাইতে শুরু করেছেন? তারা বলছেন, উন্নয়ন ধরে রাখার জন্য আওয়ামী লীগকে আরেকবার ভোট দিতে হবে?
তিনি বলেন, আর বিএনপি তো আছে সহায়ক সরকার নিয়ে। এতে জনগণের লাভ কী? জনগণের জন্য তো বিএনপি ভালো কিছু বলতে পারছে না। আসলে দেশে এখন বাকস্বাধীনতা অনেকটাই সীমাবদ্ধ? মিডিয়াও এ ব্যাপারে তেমন কিছু লিখছে না। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে?

দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচিতে চাল সরবরাহ বন্ধ

আরও খবর