বুধবার ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৭:১১

পোশাক কারখানা

নিরাপদ ও কর্মীবান্ধব করার বিকল্প নেই

Published : 2017-07-13 21:02:00
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যালায়েন্সের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সময়মতো সংস্কার কাজ সম্পন্ন না করার অভিযোগে এখন পর্যন্ত মোট ১৫৬টি তৈরি পোশাক কারখানার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বিশ্ববাজারে পোশাক ক্রেতাদের এই সংগঠন। এই পরিসংখ্যান দেশের অর্থনীতি ও পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি কোনোটার জন্যই সুসংবাদ হতে পারে না। এটা কাম্যও নয়।
দেশের গার্মেন্টস কারখানার বৈদ্যুতিক, অগ্নি ও ভবনের কাঠামোগত সংস্কার তদারকির লক্ষ্যে ২০১৩ সালে গঠিত হয় অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি। এটি অ্যালায়েন্স নামে পরিচিত। প্রায় ৬০০ কারখানার সংস্কার কাজ তদারক করছে এই জোট। এর বাইরে অ্যাকর্ড নামে ইউরোপের ক্রেতাদের সমন্বয়ে আলাদা একটি জোটও প্রায় দেড় হাজার কারখানার সংস্কার কাজ তদারক করছে। ২০১৮ সালে তাদের কার্যক্রমের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে অ্যালায়েন্সভুক্ত সব কারখানাকে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সংস্কার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ কারখানা অ্যালায়েন্সভুক্ত ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। এর আগে ইউরোপীয় ক্রেতাদের সংগঠন অ্যাকর্ডও বেশ কিছু পোশাক মালিকের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন ছিন্ন করেছে; কারণ পোশাক কারখানার অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঘাটতি। দেশের পোশাক শিল্পের বাজারকে বহির্বিশ্বে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে অ্যালায়েন্স বা অ্যাকর্ডের শর্তগুলো পূরণ না করে উপায় নেই। তা ছাড়া কারখানার পরিবেশ ও শ্রমকিদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।
 একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, অ্যালায়েন্স বা অ্যাকর্ডের মতো পোশাক ক্রেতাদের জোট এমনিতেই বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। ২০১২ সালের তাজরীন ফ্যাশন্সের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এদেশের পোশাক খাতের অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তোলে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে ফেলে দিয়েছিল চরম এক হুমকির মধ্যে। অলিখিতভাবেই পৃথিবীর সবচেয়ে অনিরাপদ কারখানার দাগটা লেগে যায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের গায়ে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এর ফলে বিশ্ববাজারে আমাদের পোশাক শিল্প অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার পর সরকার, মালিক ও ক্রেতারা মিলে যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার সফলতার প্রমাণ সবারই জানা। তবে যেসব কারখানার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে, তারা আবার শর্ত পূরণ করলে ব্যবসায়িক লেনদেনে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। তাই এসব কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নত করতে ব্যবসায়ী সংগঠন ও সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
    কারখানার কর্মপরিবেশের সঙ্গে শ্রমিকের নিরাপত্তার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির অগ্রগতিও জড়িত। তাই পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিরাপদ ও কর্মীবান্ধব করার বিকল্প নেই। পোশাক শিল্পসহ কলকারখানার কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার ইস্যুতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও মনোযোগী হবে, আমরা সেই প্রত্যাশাই করি।