রবিবার ২১ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৬:৩১

ইসমাঈল হোসেন সিরাজীর জন্ম

Published : 2017-07-12 21:57:00
আধুনিক বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রথম দিকের অন্যতম মুসলমান সাহিত্যিক সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। এ কারণে তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও অর্থাভাবে সিরাজীর কলেজে পড়া হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারলেও তিনি মেধাচর্চা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। তিনি লেখালেখি করে এবং সভা-সমিতিতে বক্তৃতা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
ইসমাঈল হোসেন সিরাজী বাগ্মী হিসেবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন। তাঁর লেখা ও বক্তৃতার প্রধান বিষয়বস্তু ছিল বাংলার অনগ্রসর মুসলিম সমাজকে জাগিয়ে তোলা। মুসলমানদের স্বার্থের পক্ষে কথা বললেও তিনি সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। তিনি মনে করতেন, সম্পদের সুষম বণ্টনের মধ্যেই হিন্দু-মুসলমানের সৌহার্দ্য নির্ভর করছে। তিনি একই সঙ্গে বেশ কিছু সংগঠন ও দলের সদস্য ছিলেন। যেমন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, আঞ্জুমান-ই-উলামা-ই-বাঙ্গালা, জামিয়াত-ই-উলামা-ই-হিন্দ, স্বরাজ পার্টি ও কৃষক সমিতি। সিরাজী অনুভব করেছিলেন ধর্মীয় ও সেক্যুলার চিন্তার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একদিকে যেমন ভারতীয় মুসলমান সম্প্রদায়কে জাগিয়ে তোলা সম্ভব, অন্যদিকে তেমনি সম্ভব অবনতিশীল হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের উন্নয়ন।
সমসাময়িক পত্রিকা আল-এসলাম, ইসলাম প্রচারক, প্রবাসী, প্রচারক, কোহিনূর, সোলতান, মোহাম্মদী, সওগাত, নবযুগ ও নবনূর প্রভৃতিতে সিরাজীর লেখা প্রকাশিত হতো। তাঁর অধিকাংশ লেখাতেই ইসলামী ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও উত্তরাধিকারকে উদ্দীপ্ত করে তোলার প্রয়াস ছিল। তিনি আধুনিক শিক্ষা ও সত্যিকার ইসলামী শিক্ষার পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। ইসমাঈল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি জমিদার ও মহাজন-বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন। ইসমাঈল হোসেন সিরাজীর কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে অনল প্রবাহ, আকাঙ্ক্ষা, উচ্ছ্বাস, উদ্বোধন, নব উদ্দীপনা, স্পেন বিজয় কাব্য, সঙ্গীত সঞ্জীবনী, প্রেমাঞ্জলি। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে রায়নন্দিনী, তারাবাঈ, ফিরোজা বেগম ও নূরুদ্দীন। ১৯৩১ সালের ১৭ জুলাই তিনি মারা যান।