বুধবার ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৫:৪৫
ব্রেকিং নিউজ

■  ২০১৯ সালে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা হবে ৩০ লাখ: আইএলও ■  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিলম্বের জন্য বাংলাদেশ দায়ী: মিয়ানমার ■  হবিগঞ্জে কৃষক হত্যায় একই পরিবারের ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ■  পশুখাদ্য মামলায় ফের ৫ বছরের কারাদ্ণ্ড লালুপ্রসাদের ■  আ.লীগ ৪০টির বেশি আসন পাবে না : জানালেন মোশাররফ ■  নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন হবে না: হুশিয়ারি ফখরুলের ■  ২৯ জানুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ■  চবিতে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা ■  ঢাবি উপাচার্যকে হেনস্তার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি ■  আফগানিস্তানে ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ কার্যালয়ে হামলা, নিহত ২ ■  ঢাবিতে অরাজকতা হতে দেওয়া হবে না: হুশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা সম্পদে পরিণত হোক

Published : 2017-07-08 22:33:00, Updated : 2017-07-09 09:35:39
পঞ্চানন মল্লিক: একটা সময় জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে মানুষের ছিল না কোনো সচেতনতা বা উদ্যোগ। ফলে দেশের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। বাংলাদেশ পরিণত হয় বিশ্বের জনবহুল ও অধিক ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটিতে। ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটারের ক্ষুদ্র এ দেশটি জনসংখ্যার ভারে হতে থাকে ভারাক্রান্ত। স্বাধীনের পূর্বে ১৯৫১ সালে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৪০ লাখ। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৭ কোটি ১০ লাখে। ১৯৮১ সালে পরিচালিত আদমশুমারি অনুসারে দেশের জনসংখ্যা ৮ কোটি ৭০ লাখ ছিল। পরে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির অব্যাহত ধারায় ১৯৮৮ সালে জনসংখ্যা পৌঁছায় ১০ কোটি ৯৯ লাখ ৬৩ হাজার ৫৫১-তে। এভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি একসময় হয়ে দাঁড়ায় এ দেশের এক প্রধান সমস্যা, যা আশির দশকের দিকে বাংলাদেশ প্রথম অনুধাবন করে। ১৯৭৬ সালে সরকার জনসংখ্যা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি হাতে নেয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিবিএসের তথ্যমতে, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে ২০০০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৩ থেকে ১.৪৭ শতাংশে নেমে আসে।
অবশ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি প্রথম দিকে সব মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেনি। নানা রকম ভুল ধারণা, প্রতিবন্ধকতা দ্বারা বিঘ্নিত হয়েছে বারবার। নানারকম পদ্ধতির ব্যবহার জ্ঞানও সবার জানা ছিল না। জনসচেতনতা ও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। ছোট পরিবার মানে সুখী পরিবার; ছেলে হোক মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ট ইত্যাদি প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এগিয়ে চলে সরকারের এসব কর্মসূচি। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নির্মিত হয় ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে সক্ষম দম্পতিদের মাঝে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান, বিনামূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণ ও নানারকম স্বাস্থ্যসেবা দিতে থাকে। স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণকারীদের কিছু আর্থিক সহায়তাও প্রদান করতে থাকে সরকার। রেডিও, টেলিভিশন ও অন্যান্য প্রচারমাধ্যম এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় নিয়মিত অনুষ্ঠানমালা, সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন ইত্যাদি প্রচার করা হতো, যা এখনও অব্যাহত আছে।
এ ব্যাপারে সরকারকে সহায়তায় এগিয়ে আসে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা-এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সমাজের সচেতন মানুষ প্রভৃতি। রেডিও, টিভির অনুষ্ঠানমালায় বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক গান মানুষের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হয়। ক্রমে মানুষের মনে ইতিবাচক সাড়া পড়তে থাকে। ধীরে ধীরে মানুষ অধিক জনসংখ্যার কুফল সম্পর্কে বুঝতে শুরু করে। অধিক সন্তান জন্ম দিয়ে তাদেরকে মানুষের মতো মানুষ করতে না পারলে কষ্টের আর সীমা থাকে না। অসত্ সঙ্গে, কুসঙ্গে মিশে সন্তান হয়ে পড়ে বিপথগামী এবং মা-বাবা ও সমাজ তথা দেশের জন্য হয়ে দাঁড়ায় অভিশাপের কারণ। অপরপক্ষে ছোট পরিবারে একটা-দুটো ছেলে-মেয়েকে অনায়াসে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলা যায়, তাদের চাহিদা সহজেই পূরণ করা যায় এবং সম্ভব হয় সাংসারিক উন্নতি করা; এমন ধারণা মানুষ উপলব্ধি করতে থাকে। ২০০৪ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাস করতে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা, শিশু স্বাস্থ্যসেবা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করা জরুরি প্রভৃতি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয় জনসংখ্যা নীতি। এর ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পেতে শুরু করে। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৪ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজারে। পরবর্তী সময়ে জনসংখ্যা একটি নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে নেমে আসে। বর্তমানে (২০১৭, আনুমানিক) দেশের জনসংখ্যা ১৬,৩১,৮৭,০০০ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩০ শতাংশ (তথ্যসূত্র : বাংলা উইকিপিডিয়া ও প্রথম আলো)।
অধিক জনসংখ্যা জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায়; ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অপুষ্টি, বেকারত্ব, কৃষিজমি হ্রাস, মানব বিপর্যয় ইত্যাদির কারণ। জনসংখ্যা অধিক হলে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটে, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয় এবং পারিবারিক ও জাতীয় নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই পরিবার তথা দেশের উন্নয়নে নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যার কোনো বিকল্প নেই। জনসংখ্যা অভিশাপ নয় বরং সম্পদে পরিণত হোক, এটা আমাদের সবার কাম্য।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণ হল অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস, বাল্যবিবাহ, অধিক বিবাহ, অসচেতনতা ইত্যাদি। এগুলো দূর করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমরা একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। জনসংখ্যার সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও দেশের জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করার অঙ্গীকার গ্রহণের মধ্য দিয়ে আসুন আমরা সামনে এগিয়ে যেতে সচেষ্ট হই।

লেখক : কবি
sahittonirr2014@gmail.com