শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১১:৩৮

আহসান হাবীবের প্রয়াণ

Published : 2017-07-08 22:32:00
কবি ও সাংবাদিক আহসান হাবীবের জন্ম ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে লেখাপড়া অসম্পূর্ণ রেখেই তিনি সাংবাদিকতা পেশা গ্রহণ করেন। কলকাতায় তকবীর, বুলবুল ও সওগাত পত্রিকায় কাজ করেন। কয়েক বছর আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় এসে আজাদ, মোহাম্মদী, কৃষক, ইত্তেহাদ প্রভৃতি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
মধ্যবিত্তের সঙ্কট ও জীবনযন্ত্রণা আহসান হাবীবের কবিতার মুখ্য বিষয়। সামাজিক বাস্তবতা, মধ্যবিত্ত শ্রেণির সংগ্রামী চেতনা এবং সমকালীন যুগযন্ত্রণা তাঁর কবিতায় শিল্পসম্মতভাবে পরস্ফুিটিত হয়েছে। তাঁর ভাষা ও প্রকাশভঙ্গিতে নাগরিক মননের ছাপ আছে। আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়। ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয়। পরে দেশ, মোহাম্মদী, বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়। আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দু’হাতে দু’আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি। তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হল অরণ্য নীলিমা ও রাণীখালের সাঁকো। এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ হল জ্যোত্স্না রাতের গল্প, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি। সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬১), বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬১), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪), নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৭৭), একুশে পদক (১৯৭৮), আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮০) এবং আবুল কালাম স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৪) লাভ করেন।
১৯৮৫ সালের ৯ জুলাই আহসান হাবীবের প্রয়াণ ঘটে।