বুধবার ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৫:০৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫ বছর: সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত থাকুক

Published : 2017-07-07 22:55:00
সাফল্যের ৬৪ বছর পেরিয়ে ৬৫তম বছরে পদার্পণ করল দেশের দ্বিতীয় ও উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত বৃহস্পতিবার এই বিদ্যাপীঠের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও প্রসারের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশ, জাতি ও সমাজকে আলোকিত করা ছাড়াও জাতির উন্নয়নে এক গৌরবময় ঐতিহ্যের অধিকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
১৯৫৩ সালের এই দিনে ১৬১ শিক্ষর্থীকে নিয়ে মতিহারের সবুজ চত্বরে যাত্রা শুরু করেছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ১০টি অনুষদের অধীনে ৫০টি বিভাগ, ৫টি ইনস্টিটিউট, অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৫৮, একাডেমিক ভবন ১২, হল ১৭ এবং গবেষকদের জন্য ডরমিটরি রয়েছে ৩টি। বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার। জাতির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান আছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির মনে যে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা সঞ্চিত হয় এবং তত্কালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পেটোয়া বাহিনীর হাতে ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বজনশ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহার নির্মম মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তা যেন গতি লাভ করে এবং স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হয়। এখন পর্যন্ত যেসব মহান শিক্ষক শহীদ ডা. শামসুজ্জোহার অনুসারী হয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন, তাদের সবার প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দার, অধ্যাপক হবিবুর রহমান এবং অধ্যাপক মীর আবদুল কাইয়ুম, ৯ জন ছাত্র, ৫ জন সহায়ক কর্মচারী এবং ১০ জন সাধারণ কর্মচারীসহ ২৭ জন শহীদ হন। আমরা তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। কালের পরিক্রমায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা লাভের পর তাদের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে কর্মজীবনে দেশে ও বিদেশে আর্থ-সামাজিক, শিল্প-সাহিত্য, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পথিকৃত্ হিসেবে গৌরবান্বিত করে চলেছেন। দৃষ্টিনন্দন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে গড়ে ওঠা সব মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য আমাদের পক্ষ থেকে রইল শুভকামনা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতিগঠন একান্ত আবশ্যক। এই চ্যালেঞ্জ পূরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এক অগ্রণী ভূমিকায় আছে। সে লক্ষ্যে এখানে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি উচ্চ নৈতিক চরিত্রের অধিকারী গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে। শুরু থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ শিক্ষা ও জ্ঞানের আলোর দিশা দিয়েছে। সেই আলোয় আলোকিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছেন।
আমরা আশা করি, আগামীর দিনগুলোতেও এই বিশ্ববিদ্যালয় সুনাগরিক গঠনের জন্য দ্যুতি ছড়িয়ে যাবে। ব্রিটিশদের বিদায়ের কয়েক বছর পর প্রতিষ্ঠিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী দিনের পথচলা আরও গৌরবময় হবে, আমরা সেই প্রত্যাশাই করি।