বুধবার ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৫:২২

প্রবাসী আয় কমছে: প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান জরুরি

Published : 2017-07-04 22:11:00
গত অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সপ্রবাহ নিম্নমুখী ছিল। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে (২০১৬-১৭) ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের চেয়ে বিদায়ী অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমেছে ২১৬ কোটি ডলার বা ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে মন্দাভাব থাকায় প্রবাসীদের কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে নানা উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। তা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমে আসার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এভাবে প্রবাসী আয় কমতে থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ফলে আমদানি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে ভোগব্যয় কমারও আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থা অর্থনীতির জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।
বিগত কয়েক বছরে প্রবাসে শ্রমিক পাঠানোর হার বেড়েছে। কিন্তু গতবারের চেয়ে এবারও প্রবাসী আয় কমেছে। এ থেকে অনুমান করা যায়, প্রবাসীরা অনেকেই বৈধ পথে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন না, নয়তো তাদের প্রকৃত আয় কমে গেছে। দুটোই আমাদের জন্য উদ্বেগের। অন্যদিকে অদক্ষ ও আধাদক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠানোর ফলে প্রবাসী আয় বাড়ানোর সুযোগ ক্রমেই সঙ্কুচিত হচ্ছে। এ অবস্থা মোটেও সুখকর নয়। এটা ভবিষ্যতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আমরা মনে করি, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, অদক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মীর জায়গায় দক্ষ কর্মী তৈরি করে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া; দ্বিতীয়ত, যেসব শ্রমিক প্রবাসে আছেন তাদের ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা; তৃতীয়ত, অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা এবং চতুর্থত, বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশে পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টিকে উত্সাহিত করা। তা ছাড়া রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে আসার প্রকৃত কারণ জানার জন্য প্রবাসীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে।
দেশের অর্থনীতির ভিতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রবাসী আয় আরও বাড়াতে হবে। তাই প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার সঠিক কারণ সরকারকেই অনুসন্ধান করতে হবে। নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। বৈধ মাধ্যমে সহজে যদি প্রবাসী শ্রমিকরা অর্থ পাঠাতে পারেন, তাহলে সরকারও উপকৃত হবে। এজন্য বৈধ মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও প্রবাসী শ্রমিকবান্ধব করা প্রয়োজন। তাদের কাছ থেকে সরাসরি অর্থ সংগ্রহ করে দেশে পাঠানোর জন্য বিশেষ ব্যাংকিং সেবা চালু করা যেতে পারে। ফলে প্রবাসী শ্রমিকরা তাদের সুবিধামতো সময়ে সহজেই টাকা পাঠাতে সক্ষম হবেন। উল্লিখিত উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে নেওয়া গেলে প্রবাসী আয়প্রবাহে ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে আসবে। আর সেটাই আমাদের কাম্য। দেশের অর্থনীতির জন্যও সেটা মঙ্গলকর।