সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১২:৪৪

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: মোকাবেলার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিন

Published : 2017-07-03 22:11:00
টানা বর্ষণ ও দেশের বড় বড় নদীতে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার ২৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। অন্যদিকে তিস্তাপারের নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কিছু গ্রাম ও তীরবর্তী চরগুলোর কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বড় বড় নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে-পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কুশিয়ারা ও সুরমার পানি আরও বাড়তে পারে।
এখন বর্ষাকাল চলছে। এ সময় ভারি বর্ষণ ও নদীগুলোতে উজান থেকে আসা অতিরিক্ত পানিপ্রবাহ আমাদের দেশে বন্যার অন্যতম কারণ। বাংলাদেশে ভারত থেকে আসা অভিন্ন নদী রয়েছে ৫৪টি। উজানে ভারি বর্ষণ হলে সেই পানি নেমে আসে বাংলাদেশে। এখানকার নদ-নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় পানি নির্দিষ্ট সময়ে নেমে যেতে পারে না। বন্যা দেখা দেয়। এ আশঙ্কা এবার আরও প্রবল। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভারি বর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
বন্যা মোকাবেলার জন্য আমাদের যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকা দরকার তার অভাব বরাবরই দেখা যায়। কেবল বন্যা দেখা দিলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা কেন? ভাটির দেশ হিসেবে উজান থেকে আসা পানি নামবে, এটাই বাস্তবতা। এ কারণে উজানে কী পরিমাণ বৃষ্টিপাত হচ্ছে, তার ওপর এখানকার বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করে। তাই সেখানকার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখলে বাংলাদেশে বন্যার আগাম পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব। ইন্টারনেটের যুগে এসব তথ্য পাওয়া কঠিন নয়। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো যদি সক্রিয় থাকত, তবে অনেক আগেই এ ব্যাপারে সতর্ক করা যেত।
সম্প্রতি হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যায় ইরি ধানের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাব চালের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এবারে বন্যার প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি স্থায়িত্বও বাড়তে থাকে, তাহলে আমন ধানের আবাদও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বন্যার আগমন সঙ্কেতকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মোকাবেলার ব্যবস্থা এখন থেকেই করতে হবে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সরকারের প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হলেও খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলায় এখনও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণতত্পরতা শুরু এবং দুর্গত মানুষগুলোর পুনর্বাসন করাই সরকারের এই মুহূর্তের করণীয়।
বন্যায় ঘরবাড়ি ও ফসল হারানো জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা কীভাবে করা যায়, তার পরিকল্পনা এখনই করতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার বন্যা মোকাবেলায় যথাযথ ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে সক্ষম হবে।