সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১২:৩৮

প্রথম প্রহরে বিনম্র শ্রদ্ধা

Published : 0000-00-00 00:00:00

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রক্তস্নাত সংগ্রামের স্মৃতিবাহী দিন। বাঙালি জাতির চির প্রেরণা ও অবিস্মরণীয় এই দিনটি শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।  একুশের প্রথম প্রহর পালিত হয়েছে বিনম্র শ্রদ্ধায়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আপামর জনতা শ্রদ্ধা জানাতে শামিল হয়েছিল রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে। হাতে ফুল-বুকে কালো ব্যাজ নগ্ন পায়ে সারিবদ্ধভাবে মানুষ এসেছিল শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। মুখে তাদের একুশের গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি।’ প্রথম প্রহরে রাজধানীর সব সড়ক যেন মিশে ছিল শহীদ বেদিতে। রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথম শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা জানানোর পর কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। তারা ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করেন। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’  প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ বেদিতে আসেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। শ্রদ্ধা জানাতে আসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে  দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। এরপর একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আসতে থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।  ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভূত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রাখতে গিয়ে সেদিন বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত, সফিউররা। পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দেওয়ার প্রথম নজির এটি। সেদিন তাদের রক্তে শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছিল দুঃখিনী বর্ণমালা, মায়ের ভাষা। আর এর মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের যে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পথ বেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বাঙালির কাছে চির প্রেরণার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। মাতৃভাষার মর্যাদা রাখতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে বাঙালি জাতি যে ইতিহাস রচনা করেছিল, শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্ব তাকে বরণ করেছে সুগভীর শ্রদ্ধায়। একুশে ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। - See more at: http://www.shokalerkhobor24.com/details.php?id=61842#sthash.g0dWLVs5.dpuf