মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৪:১৫

সবুজ ভবন

চিত্র-বিচিত্র

Published : 2017-02-23 00:38:00
চীনাদের প্রযুক্তি বিশ্বস্বীকৃত। ক্রমেই তারা প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক উন্নতির মাধ্যমে উন্নতির শিখরে অবস্থান করছে। তবে এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, বিশ্বে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরিত হয় তার প্রায় ৩০ ভাগ নিঃসরিত হয় চীন থেকে। ফলে কার্বনের প্রভাবে যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা এর ক্ষতিপূরণ চাচ্ছে। এই ঝামেলা এড়াতে বর্তমানে চীনে নির্মাণ হচ্ছে সবুজ ভবন। এরকমই দুটি ভবন নিয়ে আজকের চিত্র-বিচিত্র


চীনের জিয়াংসু প্রদেশের নানজিং শহরে দুটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাদের বলা হচ্ছে ভার্টিকেল ফরেস্ট টাওয়ার বা উলম্ব বন টাওয়ার। ভবন দুটির সামনের অংশে ১০০টির বেশি বড়-ছোট গাছ ও গুল্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে যার থেকে ক্রমবর্ধমান কার্বন-ডাই অক্সাইড কিছুটা সামাল দেওয়া যাবে। সমস্ত ভবনে ৬০০ বড় গাছ, ৫০০ মাঝারি গাছ ও ২৫০০টি লতা ও গুল্ম জাতীয় গাছ রয়েছে। আয়তন ৬৫ হাজার স্কয়ার ফুট। নাম দেওয়া হয়েছে নানজিং গ্রিন টাওয়ার। ভবনটির সবুজ বৃক্ষ থেকে বছরে ২৫ টনের মতো কার্বন শোষণ করা সক্ষম যা প্রতিদিন হিসেবে প্রায় ৬০ কেজি। 

সুউচ্চ ভবনটি ৬০০ ফুট লম্বা, যার ওপরের অংশে আছে সবুজ লাইট। এর নবম তলা থেকে ৩৬তলা পর্যন্ত রয়েছে বিভিন্ন অফিস। আরও রয়েছে জাদুঘর, গ্রিন আর্কিটেকচার স্কুল ও ছাদের ওপর একটি ব্যক্তিগত ক্লাব। দ্বিতীয় টাওয়ারটির উচ্চতা ৩৫৫ ফুট। যেটি ব্যবহার করবে হায়াত হোটেল। রয়েছে ২৪৭টি কক্ষ ও ছাদের ওপরে একটি সুইমিং পুল। অন্যান্যের মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক, বিনোদন ও শিক্ষামূলক উপকরণ। রয়েছে একাধিক আধুনিক ব্র্যান্ডের সব দোকান, খাবার মার্কেট, রেস্টুরেন্ট, কনফারেন্স হল ও চিত্র প্রদর্শনীর জায়গা। টাওয়ারটি উদ্বোধন করা হবে ২০১৮ সালে। আর এটিই হবে এশিয়ার একমাত্র উলম্ব বন আকৃতির টাওয়ার। টাওয়ারটি ডিজাইন করেন স্থপতি স্টিফেনো বলেই। এরকম আরও কয়েকটি আকাশচুম্বী ভবন রয়েছে মিলান, ইতালি ও সুইজারল্যান্ডে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আশা করছে একই রকম আরও টাওয়ার তৈরি করা হবে সিচুয়ান, লিউজ, সাংহাই ও চংকিং শহরে। 

গুয়াংজু শহরে তৈরি করা হবে ৪০০ একর জায়গা জুড়ে ফরেস্ট বা বন হোটেল। যেখানে থাকবে জিম, লাউঞ্জ, ভিআইপি এলাকা, বার, কনফারেন্স রুম। তাদের মতে, ‘আমরা আশা করছি হোটেলে আগত অতিথিরা তাদের কক্ষে ঘুমানোর সময় মনে করবেন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ বা কোনো বনের মাঝে শুয়ে আছেন।’ এ ধরনের বৃক্ষ সজ্জিত স্থাপত্য সম্পর্কে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিনিয়ত বিশ্বের স্থাপত্য সম্পর্কে পুনরায় চিন্তা করতে হবে। কার্বন শোষণ করতে ও অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে নতুন নতুন আইডিয়া বের করতে হবে। আর এর প্রতিটি প্রচেষ্টাই আমাদের তথা আমাদের গ্রহের জন্য খুবই জরুরি। একটি মাত্র প্রচেষ্টা দিয়ে সফল হওয়া যাবে না। প্রয়োজন এরকম হাজারেরও অধিক নতুন ভাবনা। তাহলেই বাঁচবে আমাদের এই ধরণী।’ 

ওয়েবসাইট অবলম্বনে মো. রাসেল। - See more at: http://www.shokalerkhobor24.com/details.php?id=61473#sthash.AGHP2aX5.dpuf