শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৯:৫৫

রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল

Published : 2017-06-22 22:14:00
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির কেলেঙ্কারির মধ্যে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার সংরক্ষণ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভ ২৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 


কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়োপযোগী বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ ব্যবস্থাপনার কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও খাদ্যের দাম কম থাকায় আমদানি ব্যয় কমে গেছে। ফলে রিজার্ভ থেকে কম ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সব মিলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ নতুন এ মাইলফলক অতিক্রম করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রতিমাসে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার আমদানি খরচ হিসেবে এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।


আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বাংলাদেশকে দুই মাস পরপর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধ করতে হয়।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬ সালের ২১ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ জমা ছিল ২ হাজার ৯৮৭ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। এর ঠিক এক বছর পর রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩০১ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভের পরিমাণ বেড়েছে ৩১৪ কোটি ৪১ লাখ ডলার বা ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ। 


তথ্যে আরও দেখা যায়, গত বছরের ২৫ এপ্রিল রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ২৯ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এরপর ৩০ জুন রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। আর চলতি বছরের ৩১ মে রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। আর ২১ জুন তা গিয়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের উপনীত হয়।   
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হয়ে যায়। এর মাত্র দেড় কোটি ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেরত পেয়েছে। এখনও চুরি হওয়া অর্থের অধিকাংশ ফিলিপাইনে রয়ে গেছে। তারপরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, রিজার্ভের খোয়া যাওয়া অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে প্রদর্শিত হয়নি। আর সেটা আন্তর্জাতিক হিসাবের মানদণ্ড অনুসারেই দেখানো হয়নি। তাই যে পরিমাণের অর্থ ফিলিপাইনে পাচার হয়েছে, তা সহকারে রিজার্ভের পরিমাণ চূড়ান্ত করা হয়েছে।