শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৭:৪২

নির্বাচন প্রস্তুতি নিতে মাঠে বিএনপির আগ্রহী প্রার্থীরা: সাবেক ছাত্রনেতাদেরই আগ্রহ বেশি

Published : 2017-06-21 23:32:00
রেজাউল করিম লাবলু: ‘সামনে আসছে শুভ দিন, ধানের শীষে ভোট দিন’-বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যে ভোটের মাঠে তত্পর হয়ে উঠেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ইতোমধ্যে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ইফতার পার্টি করেছেন তারা। এমনটাই জানিয়েছেন দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে  পোস্টার করেছেন। নেতাকর্মীদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর গঠিত নির্বাহী কমিটিতে যেসব সাবেক ছাত্রনেতা পদ পেয়েছেন তারাই বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশী। এই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে নিজেদের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন। চেয়ারপারসন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের এলাকায় গিয়ে কাজ করতে বলেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভোটের মাঠে সরব হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সকালের খবরকে বলেন, বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। তার আগে সহায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করে দাবি আদায় করে তবেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি। নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকায় গণসংযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে রমজান মাসে ইফতার পার্টি করছেন। এলাকার জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার করছেন। ঈদ উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করছেন।
গত ১৪ জুন বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ধানের শীষে ভোট চান। তিনি বলেছেন, সামনে আসছে শুভ দিন, ধানের শীষে ভোট দিন। আওয়ামী লীগের সরকার জনগণের কাছে যেসব ওয়াদা করেছিল তার একটিও পালন করেনি। তবে বিএনপি আগামী দিনে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গিয়ে ভিশন-২০৩০-এ যেসব ওয়াদা করা হয়েছে তার বাস্তবায়ন করবে।  
বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীম সিরাজগঞ্জের বেলকুচি-এনায়েতপুর-চৌহালী থেকে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে একাধিক ইফতার পার্টি দিয়েছেন তিনি। একই নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচন করতে চান সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য রকিবুল করিম খান পাপ্পু। তিনিও এলাকায় ইফতার পার্টির আয়োজন করেছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশী আলীম সকালের খবরকে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আগে থেকেই তিনি নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন।  ইতোমধ্যে এলাকায় একাধিক ইফতার পার্টি করেছেন। ঈদকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মাঝে ঈদের উপহার সামগ্রী বিতরণ করছেন। এলাকায় ভালো সাড়া পাচ্ছেন তিনি। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পাস করে আসবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর নির্বাচনী এলাকা নাটোরের বাগাতীপাড়া ও লালপুর। ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে একাধিক ইফতার পার্টি দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণ করবেন নির্বাচনী এলাকায়। একই এলাকায় নির্বাচন করতে চান ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম টিটু। তিনিও ইতোমধ্যে এলাকায় ইফতার পার্টি করেছেন। একই এলাকার এমপি ছিলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল। তিনি মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন। পটলের পরিবারের সদস্যরাও এলাকায় ইফতার পার্টি করছেন।
তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, এলাকায় কাজ করছেন। গণসংযোগও করছেন। টিটু বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ইফতার পার্টি করেছেন তিনি। এ ছাড়া এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টারও করেছেন তিনি।      
বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সকালের খবরকে বলেন, যারা বিগত সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তারা তো সব সময়ই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় কাজ করে চলেছেন। তাদের পাশাপাশি নতুন অনেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করছেন। বিশেষ করে ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর যারা দলে নতুন পদ পেয়েছেন তারাই বেশি নির্বাচনমুখী। তিনি বলেন, নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে এলাকায় কাজ করার কথা বলছেন। জবাবে চেয়ারপারসন তাদের বলেছেন, কাজ করতে থাকো। নির্বাচনের সময় দেখা যাবে কাকে কোথায় মনোনয়ন দেওয়া যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে ইতোপূর্বে যারা নির্বাচন করেছেন তাদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এরা হলেন শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, নাজিম উদ্দিন আলম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, এবিএম মোশাররফ হোসেন, সেলিমুজ্জামান সেলিম, এসএম জিলানী ২০০৮ সালে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করেন।  
বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে আলাপ করে নতুন যেসব মনোনয়ন প্রত্যাশীর কথা জানা গেছে তারা হলেন সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্য থেকে এবারই প্রথম মনোনয়ন পেতে পারেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি রাজশাহী কিংবা কুড়িগ্রাম থেকে নির্বাচনে লড়তে পারেন। এ ছাড়া দলের মনোয়নন পেতে পারেন লক্ষ্মীপুর-৪ থেকে শফিউল বারী বাবু, সিরাজগঞ্জ-৫ থেকে আমীরুল ইসলাম খান আলীম, লালমনিরহাট-১ হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম থেকে শাহীন আকন্দ, পঞ্চগড়-২ থেকে ফরহাদ হোসেন আজাদ, নওগাঁ-৪ থেকে আবদুল মতিন, ঝিনাইদহ-২  থেকে জয়ন্তু কুমার কুণ্ডু, ঝিনাইদহ-৩ থেকে আমিরুজ্জামান খান শিমুল, হবিগঞ্জ-৪ থেকে শাম্মী আক্তার, নেত্রকোনা-৫ পূর্বধলা থেকে সাবেক ছাত্রনেতা ইমরান শহীদুল্লাহ, নেত্রকোনা-২ থেকে এটিএম আবদুল বারী ড্যানী, মাদারীপুর-৩ থেকে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, বরিশাল-১  থেকে আকন কুদ্দুসুর রহমান, পটুয়াখালী-২ থেকে মুনির হোসেন, পটুয়াখালী-৩ থেকে হাসান মামুন, ঝিনাইদহ-৪  থেকে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, নরসিংদী-৪ থেকে আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, নাটোর-১ থেকে তাইফুল ইসলাম টিপু, ঝালকাঠি-২ থেকে মাহবুবুল হক নান্নু, ভোলা-৪ থেকে নূরুল ইসলাম নয়ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে শেখ মোহাম্মদ শামীম, ভোলা-১ থেকে হায়দার আলী লেলিন, বরিশাল-৪ থেকে রাজিব আহসান, কুমিল্লা-৪ থেকে আবদুল আওয়াল খান, নেত্রকোনা-১ থেকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চাঁদপুর-২ থেকে মোস্তফা খান সফরী ও ঠাকুরগাঁও-৩ থেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা কামাল আনোয়ার আহম্মেদ। ভোটযুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত রাজশাহীর পবা থেকে শফিকুল হক মিলন, নীলফামারী সদর থেকে শামসুজ্জামান জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে শাহীন শওকত, খুলনার খালিশপুর থেকে রকিবুল ইসলাম বকুল, শরীয়তপুর থেকে মিয়া নুরুদ্দীন অপু, যশোর সদর থেকে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাগেরহাট সদর থেকে আবদুস সালাম, ঢাকার তেজগাঁও থেকে সাইফুল আলম নীরব, ধানমণ্ডি থেকে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, উত্তরা থেকে এসএম জাহাঙ্গীর, মিরপুর থেকে মামুন হাসান, ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে মোতাহার হোসেন, সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে মিজানুর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ সদর থেকে জি কে গউছ প্রমুখ। ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন ছাত্রনেত্রীও আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন। সাবেক ছাত্রনেত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, রেহানা আক্তার রানু ফেনী-২, নিলুফার চৌধুরী মনি জামালপুর-৫  থেকে দলের মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তাদের একটি খসড়া তালিকা চেয়ারপারসনের হাতে রয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিচ্ছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য তালিকাও ঘেঁটে দেখছেন তিনি। সে বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। সব কিছু বিবেচনা করে চেয়ারপাসন প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবেন।
সূত্র জানায়, অনেক সময় দেখা গেছে মনোনয়নের শেষ পর্যায়েও প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন করা হয়। তা ছাড়া শীর্ষ অনেক নেতার নামে বিভিন্ন মামলা রয়েছে। নির্বাচনের আগে আদালতের দেওয়া রায়ে শীর্ষ নেতাদের অনেকে নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন। সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

আরও খবর