রবিবার ২১ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৬:১৫

ঢাকায় এএসপি খুন: পুলিশের ধারণা ঘাতক ছিনতাইকারী

Published : 2017-06-21 23:31:00
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে এক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়েছেন। ঢাকার রূপনগর থানাধীন বিরুলিয়া এলাকায় একটি সড়কের পাশ থেকে হাইওয়ে পুলিশের এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদারের (৫০) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গলায় কাপড় পেঁচানো অবস্থায় গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে মিরপুর-আশুলিয়া বেড়িবাঁধের বোটক্লাব এলাকার রাস্তার পাশে ১০-১২ ফুট গভীর খাদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
কে বা কারা এএসপি মিজানুর রহমানকে হত্যা করেছে এ ব্যাপারে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কিছু জানাতে পারেননি। পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মিজানুর রহমান গতকাল ভোর ৫টার দিকে উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর সড়কের ৩৮ নম্বর বাড়ি থেকে বের হন। এরপর কোনো একসময় তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পরিবার জানায়, তিনি কর্মস্থল সাভারের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন।
এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদার এক বছর ধরে হাইওয়ে পুলিশের সাভার সার্কেলে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল সকালে বেড়িবাঁধের বোটক্লাব এলাকায় রাস্তার পাশে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ তার সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এছাড়া ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি, র্যাব, পিবিআইসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এএসপি মিজানুর রহমানের নামে অফিসিয়াল কোনো গাড়ি ইস্যু ছিল না। এ কারণে তিনি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে অফিসে যেতেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাইভেট কারটি তার বাড়ির গ্যারেজেই রয়েছে। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগের ভেতরে পুলিশের ইউনিফর্মের শার্ট পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অফিসে গিয়ে ইউনিফর্মের শার্ট পরতেন। কিন্তু গাড়ি ছাড়া তিনি কেন বের হলেন তার কোনো উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
রূপনগর থানার ওসি সৈয়দ শহীদ আলম জানান, এএসপি মিজানুর রহমানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা অন্য কোথাও হত্যার পর বেড়িবাঁধ এলাকায় তার লাশ ফেলে গেছে। ওসি আরও জানান, নিহতের গলায় কাপড় পেঁচানো ছিল। তার শরীরে চেক শার্ট ছিল। পরনের প্যান্টটি ছিল পুলিশের ইউনিফর্ম। সঙ্গে থাকা ব্যাগে তার ব্যক্তিগত গাড়ির চাবিও পাওয়া গেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মিজানুর রহমানের লাশ পাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হলেও তার স্ত্রী বা সন্তান কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি। এ বিষয়টি সন্দেহজনক। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কোনো ঝামেলা ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম জানান, এএসপি মিজানুর রহমান এক বছর ধরে সাভারে কর্মরত ছিলেন। তাকে হত্যার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগ আলামত সংগ্রহ করেছে। গতকাল বিকেলে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত মিজানুর রহমান তালুকদারের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এলাকার আলিভুখা গ্রামে। ১৯৮৯ সালে এসআই হিসেবে পুলিশে যোগদান করেন মিজানুর রহমান। তিন বছর আগে এএসপি হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। তার স্ত্রীর নাম শাহানা পারভিন। দুই সন্তানের জনক তিনি। তার বড় মেয়ে সুমাইয়া উত্তরার একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছে। ছেলে মুশফিক প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তার ভাগ্নে শামীম শেখ জানান, তারা বুঝতে পারছেন না কে বা কারা তার খালুকে হত্যা করেছে। তার খালুর সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল কি না তা তারা বলতে পারছেন না। এদিকে রমজান মাসে রাজধানীজুড়ে পুলিশের নানাবিধ নিরাপত্তার মাঝে পুলিশের এই কর্মকর্তাকে খুনের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাঝে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সড়কে চেকপোস্ট ও টহলের মাঝে খুন করে ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

 

আরও খবর