মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ১২:১৭

ক্ষুদ্র আমানত ও লেনদেন বাইরে থাকছে আবগারি শুল্কের

Published : 2017-06-21 23:29:00
শাহ্জাহান সাজু: তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় ব্যাংকে আমানত ও লেনদেনের ওপর প্রস্তাবিত আবগারি শুল্কের হারে পরিবর্তন আসছে। ব্যাংকে ক্ষুদ্র আমানত ও লেনদেনকে আবগারি শুল্কের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেক্ষেত্রে বছরের যেকোনো সময় ব্যাংক হিসাবে এক লাখ টাকার বেশি থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতি থাকলে আবগারি শুল্ক পূর্বের মতো ৫০০ টাকাই করা হচ্ছে। বাজেট পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সমাপনী বাজেট বক্তব্যে এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন। যদিও প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে বছরের যেকোনো সময় এক লাখ টাকার ঊর্ধ্ব থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতি থাকলে আবগারি শুল্ক ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক আরোপে অর্থমন্ত্রী নতুন যে প্রস্তাব দিয়েছেন তাতে বিভিন্ন স্তরে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। তবে এই প্রস্তাবের মাধ্যমে তিনি এক লাখ টাকার নিচের অ্যাকাউন্টধারীদের এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। যেটি বিভিন্ন ফোরামের আলোচনায় খুব বেশি আসেনি। এর মাধ্যমে প্রায় এক কোটি অ্যাকাউন্টধারীকে এই কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক হিসাবে যাদের স্থিতি বা আমানত এক লাখ টাকার কম।  
প্রসঙ্গত, গত ১ জুন অর্থমন্ত্রীর উত্থাপিত আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক স্থিতিতে আবগারি শুল্কমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বছরের যেকোনো সময় এক লাখ টাকার ওপরে স্থিতি থাকলে আবগারি শুল্ক ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। চলতি অর্থবছর পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবে ২০ হাজার টাকার বেশি এবং এক লাখ টাকার কম থাকলে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক দিতে হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নতুন প্রস্তাবে এদের আবগারি শুল্কের আওতার বাইরে রাখার কথা বলেছেন। তবে বাজেট প্রস্তাবের পর ব্যাংক স্থিতিতে আবগারি শুল্ক বাড়ানো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা আবগারি শুল্ক বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক মনে করছেন না। তারা বলছেন, শুল্ক বাড়লে লেনদেনের অবৈধ মাধ্যম উত্সাহিত হবে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য ও সরকারের মন্ত্রীরাও জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর এই উদ্যোগের সমালোচনা করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এ প্রস্তাবকে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা বলে অভিহিত করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই আবগারি শুল্কের হার কমানোর বিষয়ে সম্প্রতি কয়েকটি অনুষ্ঠানে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, যখন সমালোচনার কিছু থাকে না তখন সমালোচকরা একটা কিছু খুঁজে নেন। ব্যাংক হিসাবের স্থিতিতে আবগারি শুল্ক নিয়ে ব্যাপক চিত্কার হচ্ছে। এটা আগেও ছিল। আগে ২০ হাজার পর্যন্ত স্থিতিতে দিতে হতো না। এবার সেই সুযোগ বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। আর এক লাখ টাকার ওপরে স্থিতি হলে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। এ নিয়ে বাজারে এত চিত্কার হচ্ছে যে, কিছু পরিবর্তন সেখানে করা হবে। সংসদে ২৮ জুন এ বিষয়ে জানানো হবে। আগে বললাম এজন্য যে, অনেকে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন। হারের পাশাপাশি আবগারি শুল্ক নামটিও পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। জাতীয় সংসদের বাইরে এবং ভেতরে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনার মুখে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানও আবগারি শুল্কের বিষয়টি বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ৪২৬টি। তার মধ্যে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার নিচে হিসাবধারীর সংখ্যা ৭২ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫৯টি, ১ থেকে ২ লাখ টাকা রয়েছে এমন হিসাব ৩৩ লাখ ৬২ হাজার ৯১৪টি, ৭৫ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার হিসাব রয়েছে ২৮ হাজার ৬৮৮টি। ১ থেকে ৫ কোটি টাকার হিসাব রয়েছে ৫১ হাজার ৭৮১টি, ৫ থেকে ১০ কোটি টাকার হিসাব রয়েছে ৭ হাজার ৬৬৬টি, ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার হিসাব রয়েছে ২ হাজার ৪২০টি, ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার হিসাব রয়েছে ১ হাজার ২১৪টি এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি হিসাব রয়েছে ৭৬৯টি।

আরও খবর