শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৬:০২

চাল আমদানিতে শুল্ক কমছে ১৮ শতাংশ

Published : 2017-06-20 23:35:00
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে চাল আমদানির ওপর আরোপ করা বিভিন্ন শুল্ক ১৮ শতাংশ কমছে। এতে শুল্ক দাঁড়াবে ১০ শতাংশ। সচিবালয়ে গতকাল ‘প্রতিযোগিতা আইন-২০১২’ বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালায় এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। আমদানি শুল্ক কমানোর পর কেজিতে চালের দাম কমপক্ষে ৬ টাকা কমে যাবে বলেও মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এখন চাল আমদানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) দিতে হয়। সেখানে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো এবং রেগুলেটরি ডিউটি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হচ্ছে।
দুয়েকদিনের মধ্যেই শুল্ক কমানোর আদেশ জারি করা হবে জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘চালের মূল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার চলমান আমদানি শুল্কের ১৮ ভাগ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক দিয়ে চাল আমদানি করা যাবে। এতে চলমান চালের মূল্য দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’
দেশে চালের সঙ্কট নেই দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে। হাওর অঞ্চলে এবার আগাম বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্য অঞ্চলগুলোতেও ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে এতটা ক্ষতি হয়নি যে চাল আমদানি করতে হবে। মিল মালিকরা বেশি দাম পাওয়ার জন্যই এই কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছে।’
প্রতিযোগিতা আইনের বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করে ষড়যন্ত্রমূলক যোগসাজশ, মনোপলি, জোটবদ্ধতার মাধ্যমে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধ করতে সরকার ২০১২ সালে প্রতিযোগিতা আইন পাস করে। সে মোতাবেক প্রতিযোগিতা কমিশন গঠন করা হয়েছে। দেশে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের প্রত্যাশামতো সংশোধিত আকারে পাস হবে। পাসকৃত বাজেট দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং মানুষ খুশি হবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদে এমন বাজেট পাস করা হবে, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। বাজেট পাসের পর আর কোনো আলোচনা বা সমালোচনা থাকবে না।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে অপ্রত্যাশিত প্রাণহানির ঘটনা দুঃখজনক। দুর্ঘটনার পর থেকেই সরকার উদ্ধার কাজসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে যাচ্ছে। উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে যাচ্ছে সরকার।’
প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল খান চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসু। মূল আলোচক ছিলেন ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ এ কে এনামূল হক।
এছাড়া কর্মশালায় প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য এটিএম মুর্তজা রেজা চৌধুরী, মো. আবুল হোসেন মিয়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী শফিউল হক, প্রধান আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রক আফরোজা খান, জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রার মো. মোশাররফ হোসেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্করসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, চাল আমদানির ক্ষেত্রে ২৮ শতাংশের মধ্যে ১০ শতাংশ ছিল আমদানি শুল্ক, ১৫ শতাংশ দেশীয় শিল্প রক্ষায় রেগুলেটরি শুল্ক এবং ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ছিল।

আরও খবর