মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, সকাল ১০:১৮

জালেম অত্যাচারী বিদায় হলে নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যাবে: খালেদা জিয়া

Published : 2017-06-20 23:33:00
নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের নেতা নুরুজ্জামান জনির স্ত্রী মুনিয়া পারভীন বলেছেন, একটা মানুষকে কীভাবে ১৮টি গুলি করে হত্যা করে-যেখানে একটা গুলিতেই মানুষ মারা যায়। কী নির্মমভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। যারা এমনটা করেছে তাদের নির্মমভাবে পতন হবে। তাদের বিচার করতে হবে। গতকাল রাজধানীর বনানীতে হোটেল লেকশোতে খুন-গুমের শিকার হওয়া স্বজনদের সম্মানে খালেদা জিয়া আয়োজিত ইফতার মাহফিলে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুনিয়া পারভীন এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই জালেম অত্যাচারী সরকার বিদায় হলে নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যাবে। ইফতার মাহফিলে তিন মাস সাত দিন নিখোঁজ থাকার পর ফিরে আসা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন তার নিখোঁজ থাকা দিনগুলোর কষ্টের কথা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, যখন চোখ খুলে র্যাব সদস্যরা ফরিদপুরে ফেলে রেখে গেল তখন মনে হল নতুন জীবন পেয়েছি। খোকন জানান, বাচ্চারা ধরে নিয়েছিল তাদের বাবা মারা গেছেন। তার স্ত্রীকে এদিক-সেদিক ছুটতে হয়েছিল। যারা নিখোঁজ আছে তারাও একদিন ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, ভবিষ্যতে দল ক্ষমতায় এলে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার করতে হবে।
পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরুর মেয়ে উম্মে হাবিবা মীম বলেন, আমাদের সামনে থেকে বাবাকে ওরা তুলে নিয়ে গেছে। আমার বাবার হত্যাকারীদের বিচার চাই। নিখোঁজ সেলিম রেজা পিন্টুর বোন রেহানা পারভীন মুন্নী বলেন, আমরা প্রতিদিনই পিন্টুর অপেক্ষায় থাকি। নিখোঁজ সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন আঁখি বলেন, যাদের স্বজন গুমের শিকার হয়েছেন তারা সবাই আমরা এক পরিবারের সদস্য। সবাই আমার ভাই-বোন।
খুন-গুমের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের স্বজনরা যখন এভাবে আবেগঘন বক্তব্য রাখছিলেন তখন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চোখ মুছতে দেখা যায়।
‘এবার আওয়ামী লীগ যা করেছে তা অবর্ণনীয় ও অকল্পনীয়’ : ইফতারের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘গুম’ ও ‘খুন’ হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ঈদের শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন। এর আগে খুন ও গুমের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের আবেগঘন বক্তব্যের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে গুম হওয়া নেতাকর্মীরা ফেরত আসবেন।
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার ভেবেছিল যে, বিএনপিকে শেষ করতে গেলে এসব ভালো ছেলেদের শেষ করে ফেলতে হবে, তাহলে বিএনপি দুর্বল হবে, বিএনপি ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা আজীবন ক্ষমতায় থেকে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন। এর আগেও আওয়ামী লীগ এ ধরনের কাজ করেছিল। কিন্তু এবার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ যা করেছে তা অবর্ণনীয় ও অকল্পনীয়।
‘আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় হলে নিখোঁজ হওয়া নেতাকর্মীদের সন্ধান পাওয়া যাবে’-এই আশাবাদ ব্যক্ত করে খালেদ জিয়া বলেন, দেশের জনগণ এখনও আশা করে যে, গুমের শিকার হওয়া নেতাকর্মীরা জীবিত আছে, একদিন তারা ফিরে আসবে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, কয়েক মাস পর তাকে তার বাড়ির কাছে ফেলে দিয়ে গেছে। এ রকম আরেকজন হল সাবেক ছাত্রদল নেতা খোকন। তিনি বলেন, এই জালেম অত্যাচারী সরকার বিদায় হলে তখন তাদের খোঁজ পাওয়া যাবে, তখন তারা তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাবে। বিএনপি এখনও সেই আশায় আছে।
নিখোঁজ নেতাকর্মীদের পরিবারের বেদনার সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, যারা হারিয়ে গেছে, তারা শুধু আপনাদের ছেলে নয়, আমাদেরও ছেলে। তাদের স্নেহ করতাম, ওরা দলের জন্য অনেক কষ্ট করেছে। সরকার যাদেরকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে, তারা জানত যে, এরা ভালো ছেলে, এরা দলের জন্য কাজ করবে। ওরা ভেবেছে যে, এসব কর্মীদের শেষ করে ফেলতে পারলে বিএনপি শেষ হয়ে যাবে।
পরে খালেদা জিয়া মূলমঞ্চে দলের মহাসচিবসহ নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা খাতুন, মাহবুব হাসান সুজনের মা রাশিদা বেগম, মো. জহিরের মা হোসনে আরা, এসএম আদনান চৌধুরীর বাবা রুহুল আমিন চৌধুরী, নাজমুলের স্ত্রী সাবিরা নাজমুল, সদ্য নিহত চট্টগ্রামের ছাত্রনেতা নুর আলম নুরুর স্ত্রী সুমী আখতারসহ নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইফতার করেন।
ইফতারে নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডে নিহত চৌধুরী আলম, জাহিদুল করিম তানভীর, আলম হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মো. মাসুম, মো. শামীম, মাসুদ হোসেন, মারুফ শেখ, যুবদলের নুরে আলম, আফজাল হোসেন, মনিরুল ইসলাম মনির, সেলিম শাহিন, মেহেদি আলম মাহাবি, স্বেচ্ছাসেবক দলের এম আদনান চৌধুরী, মো. কাউসার, শ্রমিক দলের ওয়াদুদ ব্যাপারী, ছাত্রদলের আসাদুজ্জামান রানা, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, মো. আলামীন, মাহবুব হোসেন সুজন, সেলিম রেজা পিন্টু, সম্রাট মোল্লা, কাজী ফরহাদ হোসেন, খালেদ হোসেন সোহেল, মো. সোহেল, মো. জহির, মো. পারভেজ হোসেন, মো. চঞ্চল, তরিকুল ইসলাম ঝন্টু, নিজামউদ্দিন মুন্না, তরিকুল ইসলাম তারা, মফিজুল ইসলাম রাশেদ, আবদুল কাদের ভুঁইয়া মাসুম, নুরুজ্জামান জনি, মাহবুবুর রহমান বাপ্পী, আমিনুল ইসলাম জাকির, মাসুদ রানা, মো. জিহাদুর রহমান, মো. রাহাত, মো. জসিম উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন, মেহেদি হাসান রাজু, এহসানুল হক খোকন, মিজানুর রহমান টিটু, আরিফুল ইসলাম মুকুল, সাইফুর রহমান সজীব, মো. হাসান ও ইফতেখার আহমেদ দিনারের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে ইফতারে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, শহিদুল ইসলাম বাবুল, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, সাইফুল আলম নিবর, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, কাজী আবুল বাশার, শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

আরও খবর