সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, 7:58
উত্তরবঙ্গে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ
Published : Wednesday, 11 January, 2017 at 11:19 PM, Count : 96
নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে গতকালও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অনেক স্থানে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও শ্রীমঙ্গল অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আজ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও এবং তত্সংলগ্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। আগামীকাল রাতের তাপমাত্রা আরও কমে আসতে পারে।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, জেলায় ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতভর ঝমঝম করে বৃষ্টির মতো পড়ছে কুয়াশা। পাশাপাশি সকালে ও বিকেলে উত্তরা হিমেল হাওয়া শীতের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মিলছে না সূর্যের দেখা। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। এ অবস্থায় গরম কাপড়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষজন। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় মাঠে যেতে পারছেন না কৃষিশ্রমিকরা। বিশেষ করে জেলার নদ-নদী তীরবর্তী এলাকার চর ও দ্বীপ চরে বেশি ঠাণ্ডা অনুভূত হওয়ায়
সেখানকার মানুষজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। তীব্র শীতে দুর্ভোগ বেড়েছে পোষা পশুপাখিরও। কুড়িগ্রাম শহরের রিকশাচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, সকাল ৮টা বাজে এখনও অনেক শীত। রিকশা চালাতে পারছি না। অনেক কষ্ট হলেও বাধ্য হয়ে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার গড়েরপাড় এলাকার মর্জিনা বেওয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ, কাজ করে ভাত খাই। গরম কাপড় না থাকায় সকালে বের হতে পারি না।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে শিশুর চিকিত্সা নিতে আসা হযরত আলী বলেন, অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে ছেলের ডায়রিয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিত্সা নিচ্ছি। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩১ শিশু ও একজন বৃদ্ধ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক ডা. শাহিনুর রহমান সরদার জানান, শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সদর হাসপাতালে মোট ২০৪ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছে। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৬০। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছে ৩১ শিশু ও এক বৃদ্ধ। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিত্সক সঙ্কটে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জাকির হোসেন জানান, এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, কুড়িগ্রামের শীতার্ত মানুষের জন্য ৫৩ হাজার ১৮৫টি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কমলেশ রায়
প্রকাশক রোমো রউফ চৌধুরী কর্তৃক সকালের খবর ভবন (৮ম ও ৯ম তলা), ২৫ কমরেড মনি সিংহ সড়ক (৬৮ পুরানা পল্টন), ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত।, দৈনিক সকালের খবর পাবলিকেশনস লিমিটেড, ১৫৩/৭ তেজগাঁও বা/এ, ঢাকা-১২০৮ হতে মুদ্রিত, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক দফতর : ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক সকালের খবর, ২০১৬
ফোন : +৮৮-০২-৮১৭০৫৬৮-৭০, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৮১৭০৫৭২
ই-মেইল : Print : dsknews@shokalerkhabor.com, Online : onlinenews@shokalerkhabor.com