শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭, 11:33
উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সচেষ্ট হতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
Published : Wednesday, 11 January, 2017 at 11:18 PM, Count : 79
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সচেষ্ট হওয়ার জন্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা যাতে বজায় থাকে, আমি চাই আপনারা (জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগণ) অন্তত সেই দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করবেন। দেশ ও জাতির সেবায় আপনাদের নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে।’
গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের শপথবাক্য পাঠ করানো শেষে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।
জেলা পরিষদ আইনটি ২০০০ সালে পাস হওয়ার ১৬ বছর পর ২৮ ডিসেম্বর ৫৯টি জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটিই ছিল জেলা পরিষদের ১৩১ বছরের ইতিহাসে প্রথম সরাসরি নির্বাচন। যদিও সাধারণ জনগণ ভোটার ছিল না। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। ৫৯ জন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. আবদুল মালেক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে এ দেশের মানুষের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের মনে রাখতে হবে- এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন শোষিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত ছিল। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর থেকে এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়। কেবল আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরই বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানতে পারে, সরকার জনগণের সেবা করে এবং জনগণ তার সুফল পায়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কাজেই আপনাদের ওপর এটাই দায়িত্ব থাকবে, প্রতিটি উন্নয়নের কাজ যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় এবং স্ব-স্ব জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যা খুঁজে বের করতে হবে। কী করলে সেই জেলার আরও উন্নতি হতে পারে, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া এবং দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়েই আপনাদের কাজ করে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার শুধু নিজেদের ক্ষমতা ভোগ করতে আসে না এবং সেটা আমরা প্রমাণ করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাই মানুষের সেবা নিশ্চিত করার জন্য তার সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা ’৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে উদ্যোগ নেই এবং স্থানীয় সরকার আইন পাস করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা পরিষদে নির্বাচন এবারই প্রথম হল। আমরা ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইন পাস করি এবং সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষকে সেবা দেওয়া। আমরা যখন স্বাধীনতা অর্জন করি তখন দেশে সাড়ে ৭ কোটি মানুষ ছিল। আজ ১৬ কোটি মানুষ। আমাদের ভূখণ্ড সীমিত, তার মাঝে এত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানো সত্যিই খুব কষ্টসাধ্য।’
তিনি বলেন, ‘সে কারণেই আমরা সবসময় মনে করি ক্ষমতাটাকে যতটা সম্ভব বিকেন্দ্রীকরণ করতে পারব, জনসেবাও তত নিশ্চিত হবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। এই স্বাধীনতাকে আমরা অর্থবহ করে তুলতে চাই। এই স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি মানুষের ঘরে আমরা পৌঁছে দিতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮-এর পর ২০১৪ সালে যখন নির্বাচন হল সেই নির্বাচনেও জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করল। যার ফলে আমাদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থেকেছে। যে কারণে আজ বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে।’
তার লক্ষ্য বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তোলা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের মানুষ যদি ক্ষুধার্ত থাকে, দরিদ্র থাকে, তারা যদি রোগে-শোকে ভুগে মারা যায়, তাহলে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য অর্জন কখনও সম্ভব হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘যদি ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জীবনে না আসত তাহলে বাংলাদেশ আরও ২৫ থেকে ৩০ বছর আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠত। জাতির পিতা পড়ে তুলতেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তার সেই কাজ সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। কাজেই দায়িত্ব এখন আমাদের। আমরা তার অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে চাই। সে জন্যই আমরা দিন-রাত অত্যন্ত পরিশ্রম করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে, নীতিমালা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। যার সুফল দেশ পাচ্ছে, দেশের মানুষ ভোগ করছে।’



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কমলেশ রায়
প্রকাশক রোমো রউফ চৌধুরী কর্তৃক সকালের খবর ভবন (৮ম ও ৯ম তলা), ২৫ কমরেড মনি সিংহ সড়ক (৬৮ পুরানা পল্টন), ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত।, দৈনিক সকালের খবর পাবলিকেশনস লিমিটেড, ১৫৩/৭ তেজগাঁও বা/এ, ঢাকা-১২০৮ হতে মুদ্রিত, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক দফতর : ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক সকালের খবর, ২০১৬
ফোন : +৮৮-০২-৮১৭০৫৬৮-৭০, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৮১৭০৫৭২
ই-মেইল : Print : dsknews@shokalerkhabor.com, Online : onlinenews@shokalerkhabor.com