সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, 7:59
পাটপণ্যে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক: আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করা হোক
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 12:00 AM, Update: 11.01.2017 10:51:58 PM, Count : 99
দেশের ‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাট ও সংশ্লিষ্ট শিল্প দীর্ঘদিনের দুর্দিন কাটিয়ে আবারও সুদিনের দিকে এগোচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি প্রচেষ্টায় বন্ধ পাটকলগুলো চালু হয়েছে। কয়েক বছর ধরে পাটচাষিরাও ভালো দাম পাচ্ছে। পাটচাষিদের উত্সাহ দেওয়ার পাশাপাশি পাটশিল্প ব্যবসায়ীদের প্রণোদনার অংশ হিসেবে ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে পাটচাষিসহ এ খাতে নিয়োজিত শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। আর এমন সময় আমাদের পাট ও পাটপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারত কর্তৃক পাটপণ্যের ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের খবর নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।
ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কয়েক বছর ধরে অভিযোগ করে আসছিল যে, সেদেশে উত্পাদিত পাটজাত পণ্যের দামের চেয়ে কম দামে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা পাটপণ্য রফতানি করছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ও ব্যবসায়ীদের অনুরোধ উপেক্ষা করে গত ৫ জানুয়ারি ভারত সরকার একতরফাভাবে বাংলাদেশ থেকে পাটজাত পণ্য আমদানিতে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে। এর ফলে এখন থেকে প্রতি টন পাটজাত পণ্যে ভারতীয় আমদানিকারকদের ৮ থেকে ৩৫০ ডলার পর্যন্ত শুল্ক গুনতে হবে। এর ফলে গত ক’দিনেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাটজাত পণ্য রফতানি কমে গেছে। এ অবস্থা পাট ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ভারত বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। তা ছাড়া সম্প্রতি ভারতে আমাদের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি বেড়েছে। এ অবস্থায় ভারত কর্তৃক অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হলে দেশের পাট শিল্পে একটা বিরূপ প্রভাব পড়বে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আমাদের পাট ও পাটপণ্য ক্রয় করতে নিরুত্সাহিত হবে। তাই এই পাট ও পাটজাত পণ্যের বিকল্প বাজার সৃষ্টি করতে না পারলে দেশের বাজারেও পাটের দাম কমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।  
বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ। ডব্লিউটিওর শর্তানুযায়ী সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ একতরফাভাবে অন্য দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারে না। কিন্তু ভারত সরকার ডব্লিউটিওর বিধি ভঙ্গ করে এই শুল্ক আরোপ করেছে তাদের দেশীয় ব্যবসায়ীদের অনুরোধে। এটা ডব্লিউটিও সনদের পরিপন্থী। তা ছাড়া ভারতের সঙ্গে আমাদের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের ওপর ভারত সরকার কর্তৃক অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করাটা দুঃখজনক।
যেহেতু বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা অধিকতর ফলপ্রসূ, তাই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এই ইস্যুতে আলোচনা হওয়া দরকার। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের পাটপণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা বন্ধুপ্রতিম দেশ দুটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার জায়গাটাকে আরও সুদৃঢ় করবে। তাই অনুমিত সন্দেহের ভিত্তিতে বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করাটা ভারত সরকারের জন্য লাভজনক হবে না। বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের দ্বিপাক্ষিক সুবিধার বিষয়টি ভারতের কাছে তুলে ধরতে হবে। সরকারকে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার পাটপণ্যের ভারতীয় বাজার ধরে রাখতে ভারতের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কমলেশ রায়
প্রকাশক রোমো রউফ চৌধুরী কর্তৃক সকালের খবর ভবন (৮ম ও ৯ম তলা), ২৫ কমরেড মনি সিংহ সড়ক (৬৮ পুরানা পল্টন), ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত।, দৈনিক সকালের খবর পাবলিকেশনস লিমিটেড, ১৫৩/৭ তেজগাঁও বা/এ, ঢাকা-১২০৮ হতে মুদ্রিত, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক দফতর : ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক সকালের খবর, ২০১৬
ফোন : +৮৮-০২-৮১৭০৫৬৮-৭০, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৮১৭০৫৭২
ই-মেইল : Print : dsknews@shokalerkhabor.com, Online : onlinenews@shokalerkhabor.com