সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, 12:28
বৃষ্টিতে শীত বেড়েছে
Published : Tuesday, 10 January, 2017 at 11:39 PM, Count : 88
নিজস্ব প্রতিবেদক: পৌষের শেষ দিকে গতকাল দেশের উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য অঞ্চলের জেলাগুলোতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে বেড়েছে শীত। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে আজও যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। আগামীকাল রাতের তাপমাত্রা কমে দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে।
গতকালের বৃষ্টিতে রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলায় বৃষ্টি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে তীব্র শীত অনুভূত হাওয়ায়  ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষের বিড়ম্বনা শুরু হয়েছে। এসব জেলায় দিনভর দেখা মেলেনি সূর্যের। নদী অববাহিকা অঞ্চলগুলোতে গতকালও কুয়াশা ছিল।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
আমাদের রাজশাহী অফিস জানায়, গতকাল ভোর থেকে টিপটিপ হিমেল বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে ঠাণ্ডার তীব্রতা আরও বেড়েছে। ফলে গতকাল দিনভর বাড়ির বাইরে মানুষের আনাগোনা ছিল কম। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ তেমন একটা বাইরে বের হয়নি।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে রাজশাহীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি চলে। সব মিলে ২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস। রাজশাহীতে গতকাল মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্র ছিল ১৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে গতকাল ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে জনজীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে। সকাল ১০টার দিকে নগরীর রেলগেটে কোদাল আর ডালি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কিছু মানুষ। তারা জানায়, প্রতিদিন তারা এখানে এসে দাঁড়ায়। শহরের বিভিন্ন এলাকার লোকজন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য তাদের নিয়ে যায়। প্রতিদিন সকাল ৮টার মধ্যেই তারা কাজে লেগে
পড়ে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে গতকাল কেউ তাদের কাজের জন্য নিতে আসেনি।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, পৌষ-মাঘের মাঝামাঝিতে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টিও স্বাভাবিক। বৃষ্টিটা আরও কয়েক দিন আগেই হওয়ার কথা ছিল। গত বছর থেকে এই বৃষ্টিটা একটু পিছিয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে ঠাণ্ডাও কিছুটা বাড়বে। এটাই স্বাভাবিক।
বগুড়া অফিস জানায়, জেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এতে করে শীতের তীব্রতাও বেড়েছে। পৌষের বৃষ্টি আর হাড় কাঁপানো শীতে বগুড়ার ১২টি উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। মেঘে ঢাকার আকাশে দিনভর এই বৃষ্টি ঝরে। ফলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যমুনা নদী পাড়ের মানুষজনের কষ্ট আরও বেড়েছে। এ ছাড়া শেরপুর উপজেলার নদীর উপকূলবর্তী সুঘাট, খানপুর, খামারকান্দি, গাড়িদহ, শাহবন্দেগী ও মির্জাপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে ব্যাপকহারে শীতজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই অসংখ্য রোগী শীতজনিত রোগের ওষুধ কিনতে শহরের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে ছুটছে। বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোখলেছুর রহমান বলেন, শীতের কারণে মানুষের নিউমোনিয়া, সর্দি, জ্বর, কাশি, আমাশয় রোগ হচ্ছে।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি বলেন, গত তিন দিনের উত্তরের হিমালয় থেকে নেমে আসা ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে লালমনিরহাটের মানুষের জনজীবন। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ঘর থেকে বাইরে যেতে পারছেন না। অনেকে টাকার অভাবে কিনতে পারছে না শীতবস্ত্র। গরম কাপড়ের অভাবে আগুনের তাপ দিয়ে শীত নিবারণ করছে অনেকেই। সরেজমিনে তিস্তা ও ধরলা নদীর চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে, ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন। চরম বিপাকে রয়েছে শ্রমজীবী, ছিন্নমূল ও তিস্তা-ধরলা নদী পাড়ের হাজার হাজার হতদরিদ্র মানুষ। প্রচণ্ড শীতে চরম বিপাকে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। কনকনে ঠাণ্ডায় শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের পাশাপাশি সীমাহীন কষ্টে রয়েছে চরাঞ্চলের হাজার হাজার হতদরিদ্র মানুষ। ঠাণ্ডা নিবারণে শীতবস্ত্র নেই তাদের। ঠাণ্ডায় থরথর করে কাঁপছে তারা। সকালে আগুনে শরীর গরম করে অনেকে কাজে বের হচ্ছে।
এদিকে চলতি সপ্তাহে শীত সহ্য করতে না পেরে সদর উপজেলার কালমাটি মাস্টারপাড়া গ্রামের পচা মাহমুদ (৭০) মৃত্যুবরণ করেন। তা ছাড়া একই সপ্তাহে শীত নিবারণে আগুনের তাপ নিতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন মোগলহাট ইউনিয়নের জারী ধরলা গ্রামের অমিতন বেওয়া (৬৫)। গত মাসে কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের শিয়ালখোয়া গ্রামের তরণী কান্ত (৬৩) শীত নিবারণে আগুনের তাপ নিতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে মারা যান। অন্যদিকে আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের খারুভাঁজ গ্রামে আগুনের তাপ নিতে গিয়ে শিশু আর্জিনা আক্তারের (১০) পরনের কাপড়ে আগুন লেগে শরীরের পঞ্চাশ শতাংশ পুড়ে যায়। শীতের কারণে গ্রামাঞ্চলের অনেক শিশুই সর্দি, কাশি জ্বরসহ শীতজনিত নানা রোগে ভুগছে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : কমলেশ রায়
প্রকাশক রোমো রউফ চৌধুরী কর্তৃক সকালের খবর ভবন (৮ম ও ৯ম তলা), ২৫ কমরেড মনি সিংহ সড়ক (৬৮ পুরানা পল্টন), ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত।, দৈনিক সকালের খবর পাবলিকেশনস লিমিটেড, ১৫৩/৭ তেজগাঁও বা/এ, ঢাকা-১২০৮ হতে মুদ্রিত, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক দফতর : ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক সকালের খবর, ২০১৬
ফোন : +৮৮-০২-৮১৭০৫৬৮-৭০, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৮১৭০৫৭২
ই-মেইল : Print : dsknews@shokalerkhabor.com, Online : onlinenews@shokalerkhabor.com